Aaj lndia Desk, কলকাতা: বিজেপির অন্দরে তোলাবাজি নিয়ে সাম্প্রতিক মন্তব্যকে হাতিয়ার করে রাজ্যের শাসকদলের পক্ষ থেকে ফের তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তিনি দাবি করেন, বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতার বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে দলের ভিতরে তোলাবাজির সমস্যা রয়েছে।
সম্প্রতি বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, দলের মধ্যে কিছু “বিচ্যুতি” রয়েছে এবং তোলাবাজি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। তার পরদিনই দিলীপ ঘোষও মন্তব্য করেন, দলের বহু নেতা “তোলাবাজির মধুতে আক্রান্ত” হয়ে পড়ছেন। এর আগে একই ধরনের অভিযোগ তুলেছিলেন জিতেন্দ্র তিওয়ারিও। এই প্রসঙ্গ টেনে কুণাল ঘোষ বলেন, একের পর এক বিজেপি নেতার মন্তব্যেই প্রমাণ হচ্ছে, তোলাবাজির অভিযোগ শুধুই বিরোধীদের প্রচার নয়, দলের ভেতরের নেতারাই তা স্বীকার করছেন।
রাজ্যের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের নাম পরিবর্তন নিয়েও সরব হন তৃণমূল বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের চালু করা জনপ্রিয় প্রকল্পগুলির নাম বদলে নতুন সরকার নিজেদের কৃতিত্ব দেখানোর চেষ্টা করছে। কন্যাশ্রী, সবুজ সাথী ও স্বাস্থ্যসাথীর মতো প্রকল্পের উদাহরণ তুলে তিনি বলেন, একসময় যেসব প্রকল্পের সমালোচনা করা হয়েছিল, এখন সেগুলির ধাঁচ অনুসরণ করেই নতুন প্রকল্প আনা হচ্ছে। তাঁর দাবি, মানুষের স্বার্থে তৈরি সরকারি প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের কোনও প্রয়োজন নেই।
তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় ফেরা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে কুণাল ঘোষ বলেন, তিনি যখন বাংলা ছেড়েছিলেন তখন তৃণমূল ক্ষমতায় ছিল না, আবার বর্তমানে তিনি ফিরলেও দল ক্ষমতায় নেই। তাই এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চান না। তবে বাকস্বাধীনতার কথা বলা মহলের এক অনুষ্ঠানে কবি জয় গোস্বামীর অসম্মান প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এই দ্বিচারিতা মানুষই বিচার করবেন।
বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলকে ঘিরে বিপুল অর্থ ও বেআইনি লেনদেনের অভিযোগ নিয়েও প্রতিক্রিয়া দেন কুণাল ঘোষ। তাঁর কটাক্ষ, যদি এত বড় অঙ্কের অর্থের উৎস বৈধ হয়, তাহলে আয়কর দফতরের উচিত তাঁকে আদর্শ করদাতা হিসেবে তুলে ধরা।


