কলকাতা: ছাব্বিশের ভোটে ভরাডুবি হতেই একে একে মমতার (Mamata Banerjee) হাত ছেড়েছেন তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গীরা। বিদ্রোহীদের দাপটে দু-ভাগে ভেঙে টুকরো হয়েছে তাঁর তৃণমূল কংগ্রেস। বিদ্রোহী ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে দল, প্রতীক, তহবিল নিয়ে চলছে দড়ি টানাটানি। এই আবহেই সামনে এল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘প্ল্যান বি’!
সূত্রের খবর, জোড়াফুল প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা মাথায় রেখেই নাকি তৈরি করে ফেলা হয়েছে ‘প্ল্যান বি’। প্রতীক বদলালেও ‘ফুল’ ছাড়ছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। অর্থাৎ জোড়াফুল না থাকলে অন্য কোনও ফুলের প্রতীক নিয়েই ভোটের ময়দানে নামার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের পথও খোলা রাখছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল।
উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের সময় ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক বেছে নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রতীক নিয়েই দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই, আন্দোলন এবং টানা তিনবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ইতিহাস তৈরি হয়েছে। তাই রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, যে প্রতীকের সঙ্গে দলের আবেগ, ইতিহাস এবং ভোটব্যাঙ্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে, সেটি কি এত সহজে ছেড়ে দেবেন মমতা (Mamata Banerjee)? কালীঘাট শিবিরের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, না। বিকল্প প্রস্তুতি থাকলেও জোড়াফুল ফিরে পেতে আইনি লড়াইও চলবে সমানতালে।
এদিকে কালীঘাট ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দুই শিবিরই নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করেছে। কমিশন উভয় পক্ষের কাছেই সাংগঠনিক ও আইনগত নথি চেয়েছে। খবর, কালীঘাট শিবির ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছে। যদিও ঋতব্রত শিবির এখনও তা জমা দেয়নি বলেই রাজনৈতিক সূত্রে দাবি।
দলের অন্যতম মুখ কুণাল ঘোষ বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস মানেই মমতা। মমতা মানেই তৃণমূল। আমাদের দল পুরোপুরি প্রস্তুত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নিজেই ব্র্যান্ড। তিনি কোন প্রতীকের প্রতিনিধিত্ব করছেন, সেটা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।” অন্যদিকে প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়ও নির্বাচন কমিশনের দ্রুত সিদ্ধান্তের দাবি জানিয়েছেন।
তাঁর কথায়, “আমাদের সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। আমরা সব নথি জমা দিয়েছি। কমিশনেরও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।” প্রতীক হাতছাড়া হলে কী হবে? এই প্রশ্নের উত্তরে সৌগতের জবাব, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সব পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত থাকেন। এই বিষয়েও তিনি প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন।”
এখন রাজনৈতিক মহলের নজর নির্বাচন কমিশনের দিকে। জোড়াফুল থাকবে কার দখলে, আর যদি না-ও থাকে, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ঠিক কোন ‘নতুন ফুল’ উঠবে, সেই উত্তরই এখন রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে বড় কৌতূহল।


