Aaj India Desk, কলকাতা: কলকাতা পুরসভার (KMC) আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে মামলায় আপাতত কোনও হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High কোর্ট)। অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারির আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ। এর ফলে বর্ধিত আসনের ভিত্তিতে কলকাতা পুরসভার ভোটের প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যেতে আপাতত কোনও আইনি বাধা রইল না।
মামলার পরবর্তী শুনানির আগে কলকাতা পুরসভা, রাজ্য নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য সরকারকে চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এরপর মামলাকারীকে আরও দু’সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে পাল্টা হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য। অর্থাৎ, আগামী ছ’সপ্তাহ পর ফের এই মামলার শুনানি হবে।
দীপু দাসের করা এই মামলায় কলকাতা পুরসভার আসন পুনর্বিন্যাসের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও নিজেদের বক্তব্য জানানো হয়। বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় জানান, আগের দিন বিকেল তিনটের সময় তাঁরা মামলার কপি হাতে পেয়েছিলেন। এরপর নিজেদের বক্তব্য জানাতে এদিন আদালতে উপস্থিত হন তাঁরা। তবে এই পর্যায়ে নতুন করে সওয়াল করে অন্তর্বর্তী নির্দেশ পাওয়ার সুযোগ নেই বলে আদালত জানিয়ে দেয়। তাঁদের বক্তব্য আদালত নথিভুক্ত করেছে বলেও জানান তিনি।
বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, কলকাতা পুরসভার আসন পুনর্বিন্যাসের পদ্ধতি সঠিক নয়। তাঁর বক্তব্য, নাগরিক পরিষেবার উন্নতির কথা বলা হলেও, আসন ভাগ করার ক্ষেত্রে জনসংখ্যাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সেই জায়গায় জনসংখ্যার পরিবর্তে ভোটারের সংখ্যা দেখে আসন পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। পাশাপাশি, এই প্রক্রিয়া চালানোর আগে সাধারণ মানুষের মতামত জানতে কোনও জনশুনানির আয়োজন করা হয়নি বলেও দাবি করেছেন তিনি।
এখন এই মামলায় পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা দলের সঙ্গে আলোচনা করেই ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছেন বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। আপাতত হাইকোর্ট কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দেওয়ায় পুরসভার ভোটের প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা নেই। তবে আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে আইনি লড়াই এখনও শেষ হয়নি। আগামী ছ’সপ্তাহ পর আদালতে কী হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


