28 C
Kolkata
Tuesday, September 8, 2026
spot_img

বাঙালির পাতে হাত, পাল্টা কথার ঝাঁঝ! আমিষ বিতর্কে বাগেশ্বর বাবাকে ধমক পরমাত্মানন্দের

Aaj India Desk, কলকাতা: দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার নিয়ে (Durga Puja Food Debate) বাগেশ্বর ধামের ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। সম্প্রতি তিনি বাংলায় এসে বলেন, যাঁরা দুর্গাপুজোর সময় আমিষ খায়, তাঁরা ‘ভণ্ড’। সেই বক্তব্যের এবার পাল্টা জবাব দিলেন স্বামী পরমাত্মানন্দ মহারাজ (Paramatmananda Maharaj)। তাঁর প্রশ্ন, বাংলার বহুদিনের দুর্গাপুজোর রীতি ও সংস্কৃতি নিয়ে মধ্যপ্রদেশের এক ধর্মগুরু কীভাবে এমন নির্দেশমূলক মন্তব্য করতে পারেন? তাঁর দাবি, বাংলার দুর্গোৎসবকে নবরাত্রির আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়।

‘দুর্গাপুজো শুধু পুজো নয়, ঐতিহ্য’

পরমাত্মানন্দ মহারাজের (Paramatmananda Maharaj) বক্তব্য, বাংলার দুর্গাপুজো বহুস্তরীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে পৌরাণিক, বৈদিক, স্মার্ত, তান্ত্রিক এবং লোকাচারের নানা প্রভাব রয়েছে। ফলে দুর্গাপুজোর খাবারের রীতিকেও শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় বিধির চোখে দেখা যায় না। তিনি বলেন, বাংলার দুর্গোৎসব শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং দীর্ঘ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিবর্তনের অংশ। এর সঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আচার, লোকসংস্কৃতি, কৃষি, সমাজব্যবস্থা, ইতিহাস ও নৃতাত্ত্বিক বিবর্তনের যোগ রয়েছে।

‘নবরাত্রি আর বাঙালির দুর্গোৎসব এক নয়’

ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যের সমালোচনা করে পরমাত্মানন্দ মহারাজের বক্তব্য, সর্বভারতীয় নবরাত্রির বিভিন্ন রীতি এবং বাংলার দুর্গোৎসবের নিজস্ব পরম্পরাকে এক করে দেখা উচিত নয়। তাঁর দাবি, বাংলার দুর্গাপুজোর সঙ্গে এমন কিছু লোকাচার এখনও যুক্ত রয়েছে, যার শিকড় বহু পুরনো সামাজিক ও ধর্মীয় পরম্পরায়। নবমীর পর্বে বলি-পরবর্তী কিছু লোকাচার এবং ‘শবরোৎসব’-এর উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বৈচিত্র্যই বাংলার দুর্গোৎসবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

বাগেশ্বর বাবাকে তীব্র আক্রমণ 

ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পরমাত্মানন্দ মহারাজ (Paramatmananda Maharaj) তাঁর ব্যক্তিগত জীবন টেনেও সমালোচনা করেন। তাঁর কথায়, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় বাগাড়ম্বর বা অতিরিক্ত কথাবার্তা হয়তো মেনে নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু ধর্মের নামে অন্যের উপর নিজের মত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। পরমাত্মানন্দের ভাষায়, ধর্মীয় বিষয়ে এমন আচরণকে সনাতন ভারতের মানুষ ‘ঔদ্ধত্য’ এবং ‘রূঢ়তা’ হিসেবেই দেখবে।

এরপর ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন পরমাত্মানন্দ মহারাজ। তাঁর বক্তব্যে, যে ব্যক্তি নিজের পরিবারকে ধর্মীয় আদর্শে ধরে রাখতে পারেন না, যিনি নিজের ভাইকে নৈতিক শিক্ষা দিতে ব্যর্থ, যিনি নিজেই কৃষকদের জমি দখল করে মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেন, তাঁর কাছ থেকে অন্যদের ধর্মীয় আচরণ নিয়ে উপদেশ শোনার প্রয়োজন আছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যের পর মূল বিতর্ক এখন শুধু আমিষ-নিরামিষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রশ্ন উঠছে, ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের দুর্গাপুজো ও নবরাত্রির রীতিকে কি একই ছাঁচে বিচার করা সম্ভব? নাকি অঞ্চলভেদে ধর্মীয় আচার ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে স্বীকৃতি দেওয়াই সনাতন পরম্পরার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য?পরমাত্মানন্দ মহারাজের বক্তব্যে সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এসেছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন