Aaj India Desk, মুর্শিদাবাদ : মসজিদ তৈরির ঘোষণা থেকে এবার ৩০ কিলোমিটার রাস্তা ‘কব্জা’র হুঁশিয়ারি! ৬ ডিসেম্বর যত এগিয়ে আসছে, ততই বাবরি মসজিদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা বাড়ছে মুর্শিদাবাদে। হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) দাবি, প্রশাসনের ক্ষমতা থাকলে জমায়েত আটকে দেখাক।
৬ ডিসেম্বরেই বড় জমায়েতের ডাক
বাবরি মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে ফের সরব আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। আগামী ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের জায়গায় বড় জমায়েতের ডাক দিয়েছেন তিনি। হুমায়ুনের দাবি, ওই দিন থেকেই মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হবে। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ৬ ডিসেম্বর মসজিদের উদ্বোধন করা হবে।
৩০ কিলোমিটার রাস্তা ‘কব্জা’র হুঁশিয়ারি
এখানেই থেমে থাকেননি হুমায়ুন (Humayun Kabir)। তাঁর হুঁশিয়ারি, ৬ ডিসেম্বর রেজিনগর থেকে বহরমপুর পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার রাস্তা তাঁদের কব্জায় থাকবে। প্রশাসনের ক্ষমতা থাকলে জমায়েত আটকে দেখাক বলেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তিনি।
বিজেপির পাল্টা চ্যালেঞ্জ
হুমায়ুনের মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপি। দলের বক্তব্য, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। ২০২৬ সালের ৬ ডিসেম্বরের কর্মসূচি নিয়ে হুঁশিয়ারি দেওয়ার আগে বর্তমান সরকারের অবস্থান বুঝে নেওয়া উচিত হুমায়ুনের। বিজেপির এক নেতার কথায়, রেজিনগর থেকে বহরমপুর পর্যন্ত রাস্তা অবরোধের কথা বলছেন হুমায়ুন। আগে তিনি আদৌ সেই অবরোধ করতে পারেন কি না, তা দেখার বিষয়। সময়ই এর জবাব দেবে বলেও মন্তব্য করেছে বিজেপি।
অন্যদিকে, হুমায়ুনের ঘোষণাকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করেছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে এসেছে তৃণমূল। তবে হুমায়ুনের বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে কুণাল বলেন, ২০১৯ সালে হুমায়ুন কবীর বিজেপির প্রার্থী ছিলেন। এখন তাঁর এই অবস্থানের পিছনে ধর্মকেন্দ্রিক রাজনীতির পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাবও রয়েছে। কুণালের দাবি, এই ধরনের ইস্যু সামনে এলে আসলে বিজেপিই রাজনৈতিক সুবিধা পাবে। হুমায়ুনের জমায়েত ও রাস্তা কব্জার হুঁশিয়ারি, বিজেপির পাল্টা চ্যালেঞ্জ এবং তৃণমূলের রাজনৈতিক অভিযোগ মিলিয়ে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে ফের উত্তাপ বাড়ছে। এবার ৬ ডিসেম্বর আদৌ জমায়েত কর্মসূচি আয়োজন করা হয় কিনা সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


