Aaj India Desk, কলকাতা: রাজ্যের একাধিক বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের (Private Blood Bank) বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয়েছে রাজ্য সরকার। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দফতরের কাছে রিপোর্ট পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে রক্ত সংগ্রহ ও সরবরাহের ক্ষেত্রে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরকেও (West Bengal Health Department Blood Supply) কোনও ধরনের গাফিলতি না করার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তবে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে রাজ্যে রক্তের কোনও ঘাটতি নেই।
বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির কাজকর্ম এবং তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। শনিবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে সেই বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে কীভাবে এগোতে হবে, সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য দফতরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন।
এর মধ্যেই বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কে অনিয়ম ও বেআইনি কাজের অভিযোগ নিয়ে রাজ্যের কাছে জবাব চেয়ে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘ন্যাশনাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল’ বা NBTC। দেশে রক্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই সংস্থার। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, গোটা বিষয়টি পর্যালোচনা করে শীঘ্রই NBTC-র কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য দফতরকে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি ব্যবস্থার কোনও গাফিলতির কারণে যাতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। রক্ত সংগ্রহ থেকে শুরু করে সংরক্ষণ এবং রোগীদের মধ্যে তা সরবরাহ—পুরো ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি দুর্গাপুরে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে নাবালকদের কাছ থেকে রক্ত সংগ্রহের অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি আরও গুরুতর আকার নেয়। ওই ঘটনায় শুক্রবার তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য নাবালকদের কাছ থেকে কোনও পরিস্থিতিতেই রক্ত না নেওয়ার বিষয়ে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, যে রক্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে তার গুণমান নিয়েও বিশেষভাবে নজর দিতে বলা হয়েছে। কোনওভাবেই যাতে দূষিত বা অনিরাপদ রক্ত রোগীর শরীরে না যায়, তা নিশ্চিত করতে নজরদারি আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের বার্তা, রক্ত সংগ্রহ ও বণ্টনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সামান্য গাফিলতিকেও কোনওভাবেই হালকা ভাবে দেখা হবে না।


