নয়াদিল্লি: গতকাল ককরোচদের সংসদ অভিযানে নজিরবিহীন প্রতিবাদের সাক্ষী থেকেছে রাজধানী দিল্লি। নির্ভয়া কান্ডের পর দিল্লিতে এরকম প্রতিবাদ হয়েছে কিনা মনে করতে পারছে না কেউ। ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযানের (CJP Protest) মাঝে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন অমিত শাহ ও যে পি নাড্ডা। নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে দেশজুড়ে প্রতিবাদ, পড়ুয়াদের ক্ষোভ, আত্মহত্যার অভিযোগ, অনশন, একের পর এক ঘটনাপ্রবাহের মাঝেও মুখে কুলুপ এঁটে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। অবশেষে প্রশ্নফাঁসের ঘটনার দু’মাসেরও বেশি সময় পরে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নিটের প্রশ্ন এইভাবে ফাঁস হয়ে ঘোর অন্যায় হয়েছে।” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ডাক্তারিতে ভর্তির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট। দেশের লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ওই পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু পরীক্ষার কিছু দিনের মধ্যেই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তীব্র হওয়ার পর পরীক্ষা বাতিল করে জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (এনটিএ)। এরপর থেকেই ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা পুনরায় স্বচ্ছ পরীক্ষার দাবি জানিয়ে আন্দোলনে নামে। বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হয়, আর হতাশার জেরে পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার অভিযোগও সামনে আসে।
এই ঘটনার পর থেকেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জোরদার হয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনও তাঁর ইস্তফার দাবিতে সরব হয়। লাদাখের সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকও একই দাবিতে ২৪ দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর আন্দোলন ঘিরে দেশজুড়ে সমর্থনের সুর।
এই নিয়ে মোদীর (Narendra Modi) দাবি, ঘটনা সামনে আসার পরই কেন্দ্র সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করেছে এবং যুবসমাজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব। তাঁর কথায়, ইতিমধ্যেই প্রশ্নফাঁস মামলায় ১৩ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তিনি (Narendra Modi) দলীয় সাংসদদের উদ্দেশে বার্তা দেন, এই ইস্যু নিয়ে রাজনীতি না করার। তাঁর কথায়, সরকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে।
বৈঠকের পর সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, নিট পরীক্ষার্থীদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, সেই নির্দেশ মেনেই তদন্ত এগোচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরও রাজনৈতিক বিতর্ক থামেনি। কারণ, বিরোধীদের মূল দাবি—কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি মোদী। এই বিষয়টিকেই হাতিয়ার করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
রাহুল স্মরণ করিয়ে দেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনা নতুন নয়। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালেও প্রশ্নফাঁস হয়েছিল, কিন্তু পরীক্ষা বাতিল হয়নি, শিক্ষামন্ত্রীও পদত্যাগ করেননি। এবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। এক্স-এ করা পোস্টে তিনি লেখেন, “মিস্টার মোদী, দেশবাসী আপনাকে কিছু প্রশ্ন করছে। কেন বারবার প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে? প্রশ্নপত্র নিয়ে আপনি কেন সবসময় চুপ করে থাকেন? বারবার ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও কেন আপনি শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করছেন না?”
নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi) প্রথমবার প্রকাশ্যে অবস্থান জানালেও, শিক্ষামন্ত্রীর রাজনৈতিক দায় বা তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। ফলে সরকারের তরফে তদন্ত ও গ্রেফতারের বার্তা সামনে এলেও, বিরোধীদের সবচেয়ে বড় দাবি, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরানো হবে কি না, শিক্ষাব্যবস্থার দুর্দশা শোধরানো হবে কিনা, প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে কেন্দ্র কঠোর পদক্ষেপ নেবে কিনা, সেই প্রশ্ন এখনও উত্তরহীন!


