Aaj India Desk, মুর্শিদাবাদ : তৃণমূল আমলে ‘কাটমানি’ নেওয়ার বহু অভিযোগ সামনে এলেও সরকার বদলের পর সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে বলেই আশা করেছিলেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু এবার সেই ‘কাটমানি’ নেওয়ারই ‘সিস্টেম’ শেখানোর পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ উঠল খোদ BDO-র বিরুদ্ধে! একটি অডিয়ো ভাইরাল হতেই মুর্শিদাবাদের ডোমকলের বিডিও শঙ্খদীপ দাসকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। তবে অডিয়োটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি aaj India।
অডিয়োয় কী শোনা গেছে ?
ভাইরাল অডিয়োতে ডোমকলের BDO শঙ্খদীপ দাস এবং গোরাইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তথা তৃণমূল নেতা হাসানুজ্জামান মণ্ডলের কথোপকথন শোনা যায়। সেখানে একজনকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “এখানে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই।” এরপর পঞ্চায়েত প্রধানের পদে থেকে কীভাবে ‘সিস্টেম’ মেনে কাজ করতে হবে, তা নিয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।
এরপরেই সরকারি প্রকল্পের কাজ করা ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন বা ‘কাটমানি’ কীভাবে নেওয়া যায়, সেই বিষয়ে পঞ্চায়েত প্রধানকে পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই অডিয়োতে বলতে শোনা যায়, “CPM-এর প্রধানরাও তো অনেক কিছু করতেন। সবই করতেন। কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে বেশি কিছু পাওয়া যেত না। কারণ, তাঁরা নিয়ম মেনে কাজ করতেন। আপনিও সবকিছু সিস্টেম মেনে করবেন, যাতে পরে কেউ কিছু বলতে না পারে।”
‘থার্ড অফিসার’ পদে বদলি
বুধবার অডিয়োটি ছড়িয়ে পড়ার পর মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয় আলোচনা। বিষয়টি নিয়ে বিরোধীদের তরফেও প্রশ্ন তোলা হয়। এরপরই ডোমকলের BDO পদ থেকে শঙ্খদীপ দাসকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তাঁকে বহরমপুর সদর মহকুমা শাসকের দফতরে ‘থার্ড অফিসার’ পদে বদলি করা হয়েছে।শঙ্খদীপ দাসের জায়গায় ডোমকলের নতুন BDO হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সুদীপ্ত অধিকারীকে।
তবে সরকারি আধিকারিকের মুখে এমন ‘সিস্টেম’-এর কথা শোনার পর এখন প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে। বিশেষ করে সরকারি প্রকল্পের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে ফের নতুন করে প্রশ্ন তুললো এই ঘটনা।


