কলকাতা: কালীঘাট তৃণমূলে ‘ঘরওয়াপসি’ করলেন মদন মিত্র (Madan Mitra)? ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেওয়ার মাত্র দু-দিনের মাথাতেই ‘কালীঘাট তৃণমূলের’ (Kalighat TMC) কর্মসূচীতে দেখা গেল কামারহাটির বিধায়ককে! শুক্রবার বিধানসভা চত্বরে ‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এর কর্মসূচিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় মদনকে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, বিরোধী দলনেতার ঘর থেকে বেরিয়েই মদন মিত্রকে (Madan Mitra) ‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এর কর্মসূচিতে যোগ দিতে দেখা যায়। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এ যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছিল। এদিনের ঘটনা মদনকে ঘিরে রহস্য আরও বাড়িয়ে দিল?
ঘটনা কি?
শুক্রবার সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে বিধানসভার বাইরে অবস্থান কর্মসূচী করছে কালীঘাট তৃণমূল (Kalighat TMC) । সেখানেই শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় মদনকে (Madan Mitra)। কথা হয় বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের সঙ্গেও। রসিকতা করে কুণাল ঘোষ বলেন, “আমাদের ভিতরের একটা লোক, ওদের দলে রইল। মদনদা ভালো থাকুন, দু-চারদিন যা মন চায়, প্রাণ চায় করুক।” এখন প্রশ্ন উঠছে, এটা কি মদনের সত্যিই সৌজন্য সাক্ষাৎ, নাকি মন এখনও পড়ে আছে সেই তিমিরেই?
কি বললেন মদন?
যদিও এরপর সংবাদসংস্থার মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল ছেড়ে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার নেপথ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চাপ ছিল বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সরাসরি উড়িয়ে দেন মদন মিত্র (Madan Mitra)। তিনি বলেন, “ইডি আমাদের ভয় দেখায়নি। কোনও ফোনও করেনি, হুমকিও দেয়নি। রাজনীতির সঙ্গে ইডিকে কেন জড়ানো হচ্ছে?”
X link: https://x.com/ANI/status/2078030432109502874
তাঁর দাবি, বিজেপিকে হারাতে হলে কালীঘাট থেকে যে ভাবে তৃণমূল পরিচালিত হচ্ছিল, তার চেয়ে আরও বেশি আক্রমণাত্মক রাজনীতির প্রয়োজন ছিল। সেই কারণেই তিনি (Madan Mitra) নতুন ‘আক্রমণাত্মক তৃণমূল’-কে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একইসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “উনি আমাকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। তাই আমিও বেরিয়ে এসেছি।”
এদিন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও প্রশংসায় ভরিয়ে দেন মদন মিত্র। তাঁর বক্তব্য, “শুভেন্দু অধিকারীর যে শক্তি ও উদ্যম, সেই বয়সে ওঁর মোকাবিলা করতে পারবেন, এমন নেতা সারা দেশে খুঁজে পাওয়া কঠিন।”


