Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন (Assembly Election) যত এগিয়ে আসছে, ততই জটিল হচ্ছে সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেসের (Congress) জোটের অঙ্ক। আনুষ্ঠানিক ভাবে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এখনও শুরু হয়নি। তার আগেই কংগ্রেসের ১৫০টি আসন চাওয়ার দাবি ঘিরে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। কংগ্রেসের এই দাবিকে সরাসরি খারিজ করে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ শিব পাল সিং জানিয়েছেন, কংগ্রেসকে ৫০টি আসন ছেড়ে দেওয়াও যথেষ্ট বেশি হয়ে যাবে।
আসন ভাগাভাগি নিয়ে কংগ্রেসকে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি বুঝে দাবি জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন শিব পাল সিং। তাঁর বক্তব্য, ১৫০টি আসন ছাড়ার কোনও প্রশ্নই নেই। এমনকি ৫০টি আসন দেওয়া হলেও সেটি সমাজবাদী পার্টির জন্য অনেক বেশি হবে।“১৫০ আসন ছাড়ার প্রশ্নই ওঠে না। ৫০টা আসন ছাড়লেও তা অনেক বেশি হয়ে যাবে,” বলেন শিব পাল সিং।
এর আগে কংগ্রেসের উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রাজেন্দ্র পাল গৌতম জানিয়েছিলেন, জোট করে নির্বাচনে লড়লে ৪০৩ আসনের মধ্যে অন্তত ১৫০টি আসনে প্রার্থী দিতে চায় কংগ্রেস। অক্টোবরের মধ্যেই আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হয়ে যাবে বলেও দাবি করেছিলেন তিনি। একই সঙ্গে, প্রয়োজনে উত্তরপ্রদেশের সবকটি আসনেই প্রার্থী দেওয়ার জন্য কংগ্রেস প্রস্তুত বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
কংগ্রেসের এই অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন প্রতাপগড়ের সমাজবাদী পার্টির সাংসদ শিব পাল সিং। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ফলাফলের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। সেই নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের ৪০৩টি আসনেই প্রার্থী দিয়েছিল কংগ্রেস। কিন্তু জয় এসেছিল মাত্র দু’টি আসনে।
এই ফলাফলের পরেও কংগ্রেস এত বেশি আসন দাবি করছে কেন, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন শিব পাল সিং। তাঁর দাবি, ২০২২ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস ভোট না কাটলে সমাজবাদী পার্টি সরকার গঠন করতে পারত।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের তুলনাও টেনেছেন সমাজবাদী পার্টির এই সাংসদ। গত লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে ৩৭টি আসনে জয় পেয়ে একক বৃহত্তম দল হয়েছিল সমাজবাদী পার্টি। সেখানে কংগ্রেসের ঝুলিতে আসে ৬টি আসন। শিব পাল সিংয়ের দাবি, সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোট না থাকলে ওই ছ’টি আসনেও কংগ্রেসের জয় সম্ভব হত না।
ফলে বিধানসভা নির্বাচনের আগে আসন ভাগাভাগি নিয়েই দুই দলের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই কংগ্রেসের ১৫০ আসনের দাবি এবং সমাজবাদী পার্টির পাল্টা অবস্থান আগামী দিনে জোটের সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার।


