নয়াদিল্লি: সব দিক থেকে চাপে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)! তাঁকে ঘিরে এমনিতেই দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড়। ইস্তফার দাবিতে রাস্তায় ছাত্র-যুবরা। বিরোধীরা একজোট। রাজপথ থেকে রাষ্ট্রপতি ভবন, চাপ বাড়ানোর একের পর এক কর্মসূচি।
আর ঠিক এমন সময়েই খুলে গেল দুই দশক পুরনো এক ফাইল! জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে ২০০৬ সালের একটি মামলার ফের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কেরলের কংগ্রেস সরকার। অর্থাৎ, যে গল্পটা প্রায় ২০ বছর আগে শুরু হয়েছিল, তার পুরনো পাতাগুলো আবার উল্টেপাল্টে দেখা হচ্ছে।
গল্পটা একটু পিছিয়ে যাওয়া যাক। সাল ২০০৬। কেরলে তখন ভি এস অচ্যুতানন্দনের নেতৃত্বে বাম সরকার। আর জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) তখন কেরলের পূর্ত দপ্তরের সচিব। সেই সময় মালয়েশিয়ার সংস্থা পাটি-বেলকে কেরলে প্রায় ২৫৪ কিলোমিটার রাস্তা তৈরির বরাত দেওয়া হয়েছিল। কাজ শেষ। কিন্তু তারপরেই শুরু গোলমাল।
অভিযোগ, রাস্তার কাজে অনিয়মের কথা তুলে সংস্থাটির পাওনা টাকা আটকে দেওয়া হয়। সংস্থার চিফ ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন কি শি বিন। সরকারের কাছ থেকে টাকা পাওয়ার জন্য তিনি নাকি বহু চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু টাকা মেলেনি।
তারপর সামনে আসে আরও গুরুতর অভিযোগ, পাওনা টাকা মেটাতে ঘুষ চাওয়া হয়েছিল! এরপরই ঘটে নাটকীয় মোড়। হঠাৎ আত্মহত্যা করেন ওই ইঞ্জিনিয়ার। আর তাঁর মৃত্যুর পর সামনে আসে একটি সুইসাইড নোট। অভিযোগ, সেখানে তৎকালীন পূর্তসচিব জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) নাম উল্লেখ করা হয়েছিল।
ব্যস! শুরু তদন্ত। তৎকালীন বাম সরকার ভিজিল্যান্সকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। কিন্তু তারপর? ফাইল এগোল না। তদন্ত থেমে গেল। কেন থামল? কী কারণে থামল? এতদিন সেই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট হয়নি।
এবার ২০ বছর পর সেই পুরনো ফাইলেই আবার ধুলো ঝাড়া হচ্ছে। কেরলের এক কংগ্রেস নেতা পুরনো মামলাটি ফের খোলার আবেদন করেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। কেরলের পুলিশমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালাও জানিয়েছেন, ২০ বছরের পুরনো ফাইল ফের খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, যে গল্পের শেষ হয়ে গিয়েছিল বলে মনে হচ্ছিল, সেটাই আবার নতুন অধ্যায় নিয়ে হাজির। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার থাকা দরকার। জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) বর্তমানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে সাংবিধানিক সুরক্ষা পান। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর নেওয়া সিদ্ধান্তের জন্য বিশেষ আইনি সুরক্ষা রয়েছে। কিন্তু সেই সুরক্ষা তাঁর দায়িত্বের বাইরের কোনও অপরাধের অভিযোগকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে দেয় না।
তাই এখন নজর সেই পুরনো তদন্তেই। ২০ বছর আগে যে ফাইল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, ২০ বছর পর সেই ফাইল খুলে কী বেরোয়? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এটা কি শুধুই পুরনো এক মামলার তদন্ত, নাকি বর্তমান রাজনৈতিক ঝড়ের মধ্যে সেই পুরনো কাহিনির নতুন করে ফিরে আসা? উত্তর মিলবে তদন্ত এগোলেই। আপাতত জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কের তালিকায় যোগ হল আরও একটি পুরনো, কিন্তু বিস্ময়করভাবে নতুন হয়ে ওঠা অধ্যায়।


