কলকাতা: এতদিন নাম ছিল ‘স্টুডেন্টস হেলথ হোম’ (Students Health Home)। কম খরচে চিকিৎসা, ডাক্তার দেখানো। মৌলালির যুবকেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসার ঠিকানা হয়ে উঠেছিল এই প্রতিষ্ঠান। এবার সেই পরিচিত হেলথ হোমই নিতে চলেছে নতুন অবতার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তৈরি হবে ৫৫ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল। আর সেই হাসপাতাল তৈরির টাকা আসবে জনগণের কাছ থেকেই।
বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু (Biman Basu) জানিয়েছেন, মৌলালির ‘স্টুডেন্টস হেলথ হোম’-কে পুরোদস্তুর হাসপাতালে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু হাসপাতাল তৈরি নয়, সংগঠনের ৭৫তম বর্ষকে সামনে রেখে রয়েছে আরও অভিনব পরিকল্পনা।
কীভাবে জোগাড় হবে হাসপাতাল তৈরির খরচ?
‘স্টুডেন্টস হেলথ হোম’ (Students Health Home) কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা, অন্তত ৭৫ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে ন্যূনতম ৭৫ টাকা করে অনুদান সংগ্রহ করা। সেই অর্থেই মৌলালি যুবকেন্দ্রে ৫৫ শয্যার হাসপাতাল গড়ে তোলার উদ্যোগ। পাশাপাশি সংগঠনের ৭৫তম বর্ষে ৭৫ জন ছাত্র-ছাত্রীর বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ হিসাবটা বেশ চমকপ্রদ! ৭৫ বছর, ৭৫ হাজার মানুষ, ৭৫ টাকা এবং ৫৫ বেডের হাসপাতাল।
সংগঠনের ৭৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মৌলালি যুবকেন্দ্রে আয়োজিত প্রস্তুতিসভায় উপস্থিত ছিলেন বিমান বসু, শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার, চিকিৎসক শংকর নাথ-সহ বিশিষ্টরা। সেখানেই বিমান বসু পুরনো দিনের স্মৃতিও ফিরিয়ে আনেন। তাঁর কথায়, বর্তমান প্রজন্মের কাছে ‘হেলথ হোম’ (Students Health Home)-এর ধারণা হয়তো ততটা পরিচিত নয়। কিন্তু প্রবীণদের স্মৃতিতে এই প্রতিষ্ঠান জড়িয়ে রয়েছে ছাত্র আন্দোলন এবং পড়ুয়াদের সুস্বাস্থ্যের দাবির সঙ্গে।
বিমান মনে করিয়ে দেন, উত্তাল ছাত্র আন্দোলনের সময়েই পড়ুয়াদের সুস্বাস্থ্যের দাবি সামনে এসেছিল। সেই আবহ থেকেই তৈরি হয়েছিল ‘স্টুডেন্টস হেলথ হোম’। এবার সেই পুরনো প্রতিষ্ঠানকেই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরও বড় করার উদ্যোগ।
শুধু মৌলালিতে হাসপাতাল নয়, সংগঠনের ৭৫তম বর্ষে পশ্চিমবঙ্গের ৭৫টি গ্রামে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি জেলা-ভিত্তিতে ৭৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে হেলথ হোমের সদস্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে সব পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু এখন মৌলালির ৫৫ শয্যার হাসপাতাল। আর সেই হাসপাতালের অর্থ জোগাড়ের জন্য বিমান বসুর আবেদন, যার যতটা সামর্থ্য, তিনি যেন চিকিৎসা পরিষেবার উন্নতির জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। একসময় ছাত্র আন্দোলনের হাত ধরে যে ‘হেলথ হোম’ (Students Health Home)-এর জন্ম, এবার সেই প্রতিষ্ঠানই আরও বড় চিকিৎসা পরিকাঠামোর পথে। নাম হেলথ হোমই থাকুক, কিন্তু এবার লক্ষ্য, আস্ত হাসপাতাল!


