Aaj India Desk, কলকাতা : গত মঙ্গলবার থেকে তৃনমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঠিকানায় পুরসভার নোটিস পাঠানো নিয়ে চলছিল জোর চর্চা। শেষে গত বৃহস্পতিবার আদালত থেকে ৩১ জুন পর্যন্ত রক্ষাকবচ দেওয়া হয় অভিষেককে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের পুরসভার নজরে শহরের আরেক প্রভাবশালী! বৃহস্পতিবার রাতেই বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নোটিস (Demolition Notice) পাঠানো হয় তাঁর বাড়িতে।
এবার নিশানায় কে ?
আরজি কর কাণ্ডে তদন্ত এবং আইনি বিতর্কের আবহ এখনও পুরোপুরি থামেনি। তার মধ্যেই এবার পুরসভার নজরে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ডাঃ সন্দীপ ঘোষ এবং তাঁর স্ত্রী ডাঃ সঙ্গীতা ঘোষ। ৩ নম্বর বরোর ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত ৮৩ নম্বর বদন রায় লেনের বাড়িটি সন্দীপ ঘোষ এবং তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে। ওই বাড়ির ছাদে অনুমতি ছাড়াই একাধিক নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পুরসভা কর্তৃপক্ষের।
কী কী বেআইনি নির্মাণ করা হয়েছে ?
অংশুমান সরকার নামে এক ব্যক্তি বাড়িটির বেআইনি নির্মাণ নিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর সন্দীপ ঘোষদের নোটিশ (Demolition Notice) পাঠায় কলকাতা পুরসভা। এরপর বিল্ডিং দপ্তরের তরফে তদন্ত শুরু হয়। পুরসভার রিপোর্টে তিনটি বড় অনিয়মের উল্লেখ করা হয়েছে —
- ছাদের উপর অনুমতি ছাড়া প্রায় ৫.৪২৫ বর্গমিটার জুড়ে একটি নতুন কাঠামো তৈরি করা হয়।
- এছাড়া লিফটের মেশিন রুমে যাওয়ার জন্য একটি নকশাবহির্ভূত স্পাইরাল সিঁড়ি বসানো হয়েছিল।
- দোতলায় অনুমোদিত দরজার জায়গায় ইটের দেওয়াল তুলে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
গত ১৪ মে কলকাতা পুরসভার স্পেশাল অফিসার (বিল্ডিং) এস বোরালের এজলাসে মামলার চূড়ান্ত শুনানি হয়। সেখানে অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত দুই পক্ষই উপস্থিত ছিলেন। শুনানিতে অভিযুক্ত পক্ষ স্বীকার করে যে, কমপ্লিশন প্ল্যানে ওই নির্মাণের উল্লেখ ছিল না। বাড়ির সংস্কারের কাজ চলাকালীন আগামী দু’মাসের মধ্যে তা সরিয়ে ফেলার আশ্বাসও দেওয়া হয়।
দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর স্পেশাল অফিসার নির্দেশ দেন, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে ছাদের সমস্ত বেআইনি নির্মাণ (Demolition Notice) ভেঙে ফেলতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে নির্দেশ মানা না হলে পুরসভা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে।


