Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর সব জায়গাতেই শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম আমলের পর ১৫ বছরের তৃনমূলের সরকারের পতন ঘটিয়ে প্রথম বার বাংলার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। এই পরিস্থিতিতে দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন পরিসরে, বিশেষ করে গণপরিবহণে, সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক মতামতে বদলের ইঙ্গিত মিলছে। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সমর্থক হিসেবে পরিচিত বহু মানুষই এখন তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
বদলে গেলো জনতার রায়
নিত্যযাত্রীদের কথোপকথনে এখন রাজনীতিই অন্যতম আলোচ্য বিষয়। যাঁরা একসময় তৃণমূল সরকারের সমর্থক ছিলেন, তাঁদের মধ্যেও এখন পরিবর্তনের প্রত্যাশা দেখা যাচ্ছে। “এবার কাজ হবে” এমন মন্তব্য যেমন শোনা যাচ্ছে, তেমনই কেউ কেউ বলছেন, “সময় থাকতে সম্মানের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নিজের চেয়ার ছেড়ে সরে গেলে ভালো করতেন।”
এখনও শ্রদ্ধার মানুষ বুদ্ধদেব
এই প্রেক্ষিতেই আলোচনায় উঠে আসছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নামও। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে আজও শ্রদ্ধার পাত্র তিনি। ১৯৭৭ সালে প্রথম বামফ্রন্ট সরকার গঠিত হলে তিনি তথ্য ও জনসংযোগ মন্ত্রী হন। পরে শিক্ষা, স্বরাষ্ট্রসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। ২০১১-এর নির্বাচনে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। কিন্তু সেই সময়েও কোনো অজুহাত না দিয়ে, নীরবে মাথা উঁচু করে তিনি সেই পরাজয় মেনে নিয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তুলনা না চললেও বার বার তাঁর নাম উঠে আসার পেছনে রয়েছে তাঁর রাজনৈতিক সৌজন্য এবং স্বভাব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ব্যক্তিগত সততা, সংযমী রাজনৈতিক আচরণ এবং প্রশাসনিক ভাবমূর্তির জন্য এখনও বহু মানুষের কাছে সম্মানিত। ক্ষমতায় না থাকলেও তাঁর ব্যক্তিত্ব নিয়ে জনমানসে ইতিবাচক স্মৃতি রয়ে গেছে।
উল্টোদিকে, পরাজয়ের পরেও নিজের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে রাজি হননি মমতা। এই পরিস্থিতি ক্রমশ লোকের হাসির খোরাক হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সরকারকে ঘিরে নানা স্তরে অসন্তোষের কথা সামনে আসছে। তৃনমূল সরকারের দীর্ঘদিনের দুর্নীতি সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যেই হতাশা তৈরি করেছে। পাশাপাশি চেয়ার আঁকড়ে ধরে ইস্তফা না দেওয়ায় মানুষের ক্ষোভ আরোও বেড়েছে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব দাবি করছে, তাদের জনভিত্তি অটুট রয়েছে।
বাংলার রাজনীতিতে পরিবর্তনের এই মুহূর্তে জনমতের এই সূক্ষ্ম পরিবর্তন কতটা স্থায়ী, তা সময়ই বলবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, সাধারণ মানুষের কথাবার্তায় এখন ‘দিদি’ নয়, ‘দাদা’রাই হয়ে উঠেছে প্রধান।


