Aaj India desk, উত্তর ২৪ পরগণা: গতকাল রাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন রাজ্যের সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু (shuvendu adhikari)অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। এটাই প্রথমবার নয় এর আগেও শুভেন্দুর আরও দুই আপ্ত সহায়কের রহস্যমৃত্যু হয়েছিল। বারবার কাছের লোকেদের মৃত্যুর পর এই প্রথম বিবেকদংশন হচ্ছে তাঁর। চন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর এমনটাই জানালেন মেদিনীপুরের দাপুটে নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
কি বললেন তিনি?
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি (shuvendu adhikari)বলেন,” এটা আমার ব্যক্তিগত লস। আমার পরিবারের কাছেও। আমি যদি বিজেপি বা বিরোধী দলনেতা না হতাম, তাহলে হয়ত ওকে টার্গেট করতো না। আমি যদি ভবানীপুরে না জিততাম, ওকে হয়ত টার্গেট করা হতো না। আমি এই মানসিক দংশনে বিদ্ধ।চন্দ্রনাথের ক্রিমিনাল ব্যাকগ্রাউন্ড নেই, রাজনৈতিক পরিচয় নেই সরাসরি, মঞ্চে উঠে বক্তৃতায় আক্রমণের উদাহরণ নেই। তাই তার এই মৃত্যুর কারণ শুভেন্দু অধিকারী(shuvendu adhikari)। বিরোধী দলনেতার আপ্ত সহায়ক হওয়ার জন্যই মারা হয়েছে। আমার নতুন করে মন্তব্যেক অবকাশ নেই। নিষ্পাপ, তরুণ, শিক্ষিত, এক্স সার্ভিসম্যানকে খুন করা হল কেবলমাত্র তিনি শুভেন্দু অধিকারীর সহায়ক বলে। আর শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছে বলে।এখন আমার মনে হচ্ছে, বাড়ির লোকজন ভাবতেই পারেন যে আমার সহায়ক যদি না হতেন, বা আমি যদি ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীকে না হারাতাম, তাহলে হয়ত এই তরুণ যুবককে চলে যেতে হতো না।” চন্দ্রনাথের অপরাধীদের খুঁজে বার করে ফাঁসি দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। তাঁর কথায়,” পুলিশ, সিআইডি, সিট বা অন্য যাঁরা তদন্তে সহযোগিতা করছেন, তাঁদের কাছে আবেদন। ডিজিপি জানিয়েছেন, তাঁরা অনেক দূর এগিয়েছেন। সিট বানিয়েছেন। ৪ কিলোমিটার দূর থেকে মোটর সাইকেলটা উদ্ধার হয়েছে।”
শুভেন্দুর(shuvendu adhikari) বক্তব্য থেকে স্পষ্ট তাঁর অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে। এর আগে শুভেন্দু যখন তৃণমূলের মন্ত্রী ছিলেন তখন ২০১৩ সালে মৃত্যু হয় তাঁর তখনকার আপ্ত সহায়ক প্রদীপ ঝার মরদেহ পাওয়া যায় কলকাতার স্ট্র্যান্ড রোডে।প্রদীপ ঝার মা অভিযোগ করেছিলেন, তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয় ২০১৮ সালে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে শুভেন্দু অধিকারীর (shuvendu adhikari)বাড়ির (শান্তিকুঞ্জ) উল্টোদিকে পুলিশ ব্যারাকে তাঁর দেহরক্ষী শুভব্রত চক্রবর্তীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। শুভব্রত চক্রবর্তীর স্ত্রী সুপর্ণা চক্রবর্তী ২০২১ সালে কাঁথি থানায় নতুন করে অভিযোগ করেন। সুপর্ণার দাবি ছিল গভীর ষড়যন্ত্রের। দুটি ক্ষেত্রেই অভিযোগের তির ছিল স্বয়ং শুভেন্দুর দিকে। চন্দ্রনাথের মৃত্যু নিয়ে তাই ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন সত্যিই কি এই ঘটনা ভোট পরবর্তী হিংসার কারণে? নাকি আড়ালে লুকিয়ে আরও ভয়ানক কোনো সত্য।


