Aaj India Desk, হাওড়া : নির্বাচনের পরেই পরাজয় মিলতেই তড়িঘড়ি একের পর এক তৃণমুলের (TMC) নেতা কর্মী দল ছেড়েছেন। এর মধ্যেই হাওড়া জেলার তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরেও দেখা গেলো বড় ফাটল। হাওড়া পুরসভার প্রাক্তন মুখ্য প্রশাসক ও প্রবীণ নেতা সুজয় চক্রবর্তী আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা করেন। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও বঞ্চনার অভিযোগ তুলে দল ছাড়ার কথা জানান।
পুরসভার কাজ নিয়ে ক্ষোভ
ডা. সুজয় চক্রবর্তীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলালেও প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা না পাওয়ায় হাওড়া পুরসভার কাজ কার্যত বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। তাঁর দাবি, পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের কাছে বারবার আবেদন জানানো হলেও পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। অর্থাভাবের কারণে কর্মীদের বেতন সময়মতো দেওয়া সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি, ঠিকাদারদের বহু কোটি টাকার বিলও আটকে ছিল। তাঁর কথায়, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনও সমাধান হয়নি।
ভোটের আগে কেনো নীরব ?
সাংবাদিক বৈঠকে সুজয় চক্রবর্তী বলেন, “দলের (TMC) অসহযোগিতার কারণেই আমি আগেই চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলাম। কিন্তু নির্বাচনের সময় দলকে অস্বস্তিতে ফেলতে চাইনি বলেই এতদিন চুপ ছিলাম।” এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
কোন দলে যোগ ?
দল ছাড়ার পর স্বাভাবিকভাবেই তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তিনি স্পষ্টভাবে কিছু জানাননি। তবে আপাতত কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই দাবি করেছেন তিনি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, হাওড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় অভিজ্ঞ প্রশাসক ও সংগঠকের দলত্যাগ এই মুহূর্তে তৃণমূলের উপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে।
হাওড়া পুরনিগম নির্বাচন দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থার কারণেই দলের অন্দরেই ক্ষোভ বাড়ছিল। ডা. সুজয় চক্রবর্তীর পদত্যাগ সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ মাত্র। যদিও এই বিষয়ে এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।


