Aaj lndia Desk,কলকাতা: ২০১১ – এর বিধানসভা নির্বাচনের চিত্রটা মনে আছে আপনাদের ? যদি না থাকে আসুন একটু মনে করিয়ে দিই ! ১৩ মে শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে সেদিন ছিল এক বিচিত্র দিন ৩৪ বছরে দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই-এর পতন ,সেই পতন ছিল ইতিহাস সাক্ষী করা বিশাল অংকের পরাজয় ,সেই সময়ে বামফ্রন্ট সরকারকে মাত্র ৬০ টি আসন পেয়ে পরাজয় শিকার করতে হয় ,ক্ষমতায় আসে তৃণমূল ।
তিনি তার নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র যাদবপুর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী মণীশ গুপ্তের কাছে ১৬,৬৮৪ ভোটে পরাজিত হন অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এটি ছিল কোনো আসীন মুখ্যমন্ত্রীর দ্বিতীয়বার পরাজয় (প্রথম আসীন ছিলেন প্রফুল্ল চন্দ্র সেন , ১৯৬৭ সালে আরামবাগ বিধানসভায় অজয় মুখোপাধ্যায়ের কাছে পরাজিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ২৮ শে ফেব্রুয়ারি পদত্যাগ করেন)। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের দিন অর্থাৎ ১৩ মে, ২০১১ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন ফলাফল স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর ওই দিন বিকেলেই তিনি রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল এম. কে. নারায়াণনের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন।
কেন এখনোও পদত্যাগ করলেন না মমতা ?
প্রথা অনুযায়ী ফল প্রকাশের দিনই পদত্যাগের কথা ইতিহাস বলছে। তবে এখন সেই ইতিহাসকে কার্যত বড়াগুল দেখাচ্ছে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় , হার নিশ্চিত হয়েছে ১০-১২ ঘণ্টা আগে তবে এখন পদত্যাগের কোনরকম বার্তায় তিনি জনসম্মুখে আনেননি , তবে জানা গিয়েছে বিকালের দিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একত্রে সাংবাদিক সম্মেলন করবে।
মমতা ইস্তফা না দিলে কোন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে ?
কাল থেকে লাগাতার অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কন্ঠে। কখনো কমিশনকে নিশানা , কখনো বা কাউন্টিং-এ গোলযোগের অভিযোগ , তবে এই সব এর জেরেই কি তিনি আদালতের পথে হাঁটছেন ? এখনই কিছু স্পষ্ট জানা যাচ্ছে না তবে আশা রাখা হচ্ছে বিকালে স্পেস কনফারেন্সে বিশেষ কোন বার্তা জনসম্মুখে আসতে চলেছে।
ইস্তফা না দিলে রাজভবন কি কোন বড় পদক্ষেপ নিতে পারে ?
রাজভবন তথা রাজ্যপাল এর দেওয়া নির্দেশ মেনে যদি সময় মত ইস্তফা না দেয় সে ক্ষেত্রে ভারতীয় সংবিধানের ১৬৪ ধারা অনুযায়ী রাজ্যপাল তাঁকে বরখাস্ত করতে পারেন।
তবে এখন দেখার সময় মত নিয়ম মেনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্তফা দেয় কি না ? নাকি তিনি অন্য কোন সিদ্ধান্তের দিকে অগ্রসর হন।


