Aaj India Desk, পশ্চিম মেদিনীপুর : ২ মে, শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভোটের অনিয়মের কারণে ১৫ টি বুথে চলছে পুনর্নির্বাচন। এর মধ্যেই একই দিন সকালে ভোট গণনার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা (২২৭) ও দাসপুর (২৩০) বিধানসভা কেন্দ্রে গণনার কাজে নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি।
কী অভিযোগ করেন তিনি ?
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) অভিযোগ করেন, উল্লিখিত দুই কেন্দ্রে ভোট গণনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ‘জীবিকা সহায়ক’, ‘সহায়ক’ ও চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের (DEO) নিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর মতে, এই ধরনের অস্থায়ী কর্মীরা রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে পারেন, যা গণনা প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
শুভেন্দু অধিকারীর পোস্ট : https://x.com/i/status/2050424476962103403
কোন কোন নাম উল্লেখ করা হয়েছে?
পিংলা কেন্দ্রে কিছু চুক্তিভিত্তিক কর্মীর নাম উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, তাঁদের গণনা ও সংকলন দলে রাখা হয়েছে। পিংলা (২২৭) বিধানসভা কেন্দ্রের ক্ষেত্রে তিনি যাঁদের নাম উল্লেখ করেছেন—
- বিপ্লবেন্দু বেরা (জীবিকা সহায়ক)
- শঙ্কর পাহাড়ি (জীবিকা সহায়ক)
- নব কুমার আপিক (বিএলএস)
- স্বপন মিদ্যা (বিএলএএএ/ রিজার্ভ ট্যাগিং সংক্রান্ত কাজে যুক্ত)
দাসপুর (২৩০) কেন্দ্রের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম আলাদা করে উল্লেখ না করলেও, তিনি দাবি করেছেন যে সেখানে ‘সহায়ক’, ‘ভিএলই’ (Village Level Entrepreneur) এবং চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা হয়েছে।
কমিশনের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন
এই পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তব্য, গণনা প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র স্থায়ী সরকারি কর্মীদের নিয়োগ করা উচিত, যাতে নিরপেক্ষতা বজায় থাকে। তিনি আরও দাবি করেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন এবং জেলার সমস্ত গণনাকর্মীর তালিকা পর্যালোচনা করা উচিত। তবে, এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসনের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যের শাসক দল অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের উপর প্রভাব খাটিয়ে ফলাফলে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করতে পারে বলেই সন্দিহান বিরোধী দলনেতা। অন্যদিকে ভোট গণনা শুরু হওয়ার আগেই শুভেন্দুর এই আগাম সতর্কবার্তা ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। এই পোস্টের পরে নিজেদের পরাজয় আসন্ন বুঝে আগে থেকেই বিজেপি নানা যুক্তি খাড়া করার চেষ্টা করছে বলে কটাক্ষ করে মন্তব্য করে বিরোধী দলগুলি। তবে ভোট গণনার প্রকৃত ফলাফল কী হবে, তা জানা যাবে ৪ই মে।


