Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগণা : সোমবারই ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের শেষ দিন। এই দিন ব্যারাকপুরের জনসভা থেকে সরাসরি বিরোধী দলগুলিকে ব্যঙ্গ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘জঙ্গল রাজ’ বলে উল্লেখ করে ম এই সভায় তিনি তীব্র আক্রমণ চালিয়েছেন একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের উপর।
কাকে নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী ?
জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এতদিন ক্ষমতায় থেকেও মা, মাটি, মানুষ কোনোটার জন্যই কোনো কাজ বা উন্নয়ন করতে পারেনি রাজ্য সরকার। তাই নিজেদের মা-মাটি-মানুষের স্লোগানটুকুও দিতে লজ্জা পাচ্ছে তৃনমূল।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৃণমূলের শাসনে ‘মা’ কাঁদছে, ‘মাটি’ অনুপ্রবেশকারী ও সিন্ডিকেটের দখলে চলে গেছে এবং বাংলার ‘মানুষ’ ভয়ে রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস ‘মা, মাটি, মানুষ’ স্লোগানকে সামনে রেখে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে। মায়ের সম্মান, মাটির সুরক্ষা ও মানুষের কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তৃণমূল দীর্ঘদিন ধরে ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে। কিন্তু বাস্তবিক যে স্লোগানের উপর ভরসা করে শাসক দল গত ১৫ বছর বাংলায় রাজ করেছে, সেই স্লোগান তৃনমূলের তরফে এই বিধানসভা নির্বাচনের কোনো পর্বেই ব্যবহার করা হয়নি। ফলে সুযোগ বুঝেই নির্বাচনের শেষ দিনে বিস্ফোরক মন্তব্য করে শাসকদলকে বিঁধলেন নরেন্দ্র মোদী(Narendra Modi)।
অন্যদিকে, এই দিন দেশ জুড়ে উন্নয়ন করার জন্য তিনি সভায় বাংলার মানুষদের সাহায্য চেয়ে আবেদন করেন। তিনি বলেন, পূর্ব ভারতের সঠিক উন্নতি ছাড়া পুরো দেশের উন্নতি সম্ভব নয়। এর মধ্যে বিহার বা অঙ্গ ও ওড়িশা বা কলিঙ্গে ইতিমধ্যেই বিজেপি নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসীন। আত্মবিশ্বাসী সুরে তিনি বলেন, “এবার বঙ্গের পালা। বাংলায় পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।”
কেনো শেষ মুহূর্তে স্লোগান নিয়ে আক্রমণ ?
প্রথম দফায় ভোটারদের উচ্চ উপস্থিতি বিজেপির কাছে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে উঠে এসেছে। এই সময়ে তৃণমূলের মূল আবেগীয় অস্ত্রকে আক্রমণ করে শাসক দলের শাসনের ব্যর্থতাকে সামনে আনতে চাইলেন মোদী (Narendra Modi)। নারী নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ, সিন্ডিকেট রাজ ও উন্নয়নের অভাবের মতো ইস্যুগুলোকে ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর ব্যর্থতার সঙ্গে যুক্ত করে তিনি ভোটারদের মনে প্রশ্নের বীজ বপন করেছেন। দ্বিতীয় দফায়, বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি সহ বিভিন্ন এলাকায়, বিজেপির সমর্থন বাড়ানোর জন্য এই আক্রমণাত্মক কৌশল ব্যবহার করে তিনি শাসক দলকে কোণঠাসা করে দিতে চাইছেন বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের।


