মুর্শিদাবাদ: দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণে বাকি মাঝে ৩ দিন। ফলাফল ৪ মে। তার আগেই নিজের কেন্দ্র সহ মুর্শিদাবাদের আরও ৩ কেন্দ্রের ফলাফল জানিয়ে দিলেন সাগরদিঘির বিদায়ী বিধায়ক ও তৃণমূল প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস (Byron Biswas)। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি স্পষ্ট বললেন, “আমি আমার বিধানসভায় হারছি। জঙ্গিপুর, সামশেরগঞ্জ, ফারাক্কা-তেও হারছে”! ফলাফলের আগেই বায়রনের এই মন্তব্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ঝড়। প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূলকে অস্বস্তিতে ফেললেন বিদায়ী বিধায়ক?
সুযোগ লুফে নিল বিজেপি
বায়রন বিশ্বাসের এর মন্তব্যের ভিডিও পোস্ট করেছে সমাজমাধ্যমে ঝড় তুলেছে বিজেপি। শনিবার বিজেপির আইটি সেলের ইনচার্জ অমিত মালব্য, ওয়েস্ট বেঙ্গল বিজেপি, সহ একাধিক বিজেপি কর্মী সমর্থকেরা এই ভিডিও শেয়ার করে পোস্ট করতে শুরু করেছেন।
X Link: https://x.com/BJP4Bengal/status/2047922911152144419
পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে পোস্ট করা হয়, “প্রথম দফায় তৃণমূল কংগ্রেস ১৫-১৬টি আসনও পার করতে হিমশিম খেতে পারে! অনুব্রত মণ্ডল এমনটা স্বীকার করে নেওয়ার পর, সাগরদিঘির প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস (Byron Biswas) আরও এক ধাপ এগিয়ে প্রকাশ্যে নিজের পরাজয় মেনে নিলেন। পাশাপাশি তিনি এমন সব বর্তমান বিধায়কদের নামও উল্লেখ করেন যাঁদের হার নিশ্চিত বলে উল্লেখ করলেন তিনি। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও জানালেন ধন্যবাদ!” একই পোস্ট করেছেন অমিত মালব্যও।
ঠিক কি ঘটেছে?
প্রসঙ্গত, ফারাক্কা, শামশেরগঞ্জ, সুতি, রঘুনাথগঞ্জ, জঙ্গিপুর এবং সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম স্ট্রংরুম করা হয়েছে জঙ্গিপুর পলিটেকনিক কলেজকে। শুক্রবার রাতে স্ট্রংরুম পরিদর্শনে গিয়ে সিসিটিভি ক্যামেরার সঙ্গে স্ক্রিন নেই বলে অভিযোগ তোলেন বায়রন (Byron Biswas)। পরে আধিকারিকরা সিসিটিভি ক্যামেরা পর্যবেক্ষক স্ক্রিন লাগিয়ে দেন।
এরপর শনিবার ভোর চারটে নাগাদ ফের জঙ্গিপুর পলিটেকনিক কলেজে দলবল নিয়ে হাজির হন বায়রন। স্ট্রং রুমের ভেতরে যাওয়ার দাবী করতে থাকেন তিনি। শুরু হয় ব্যাপক অশান্তি। তাঁর অভিযোগ, স্ট্রং রুমের বেশ কিছু সিসি ক্যামেরা রাত ১২ টা, ১ টা নাগাদ কিছুক্ষণের জন্য অফ হয়ে গিয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল সূত্রে খবর, কারচুপির সন্দেহে ‘হারের কথা’ বলেছেন বায়রন বিশ্বাস (Byron Biswas)। আবার বর্তমানে সাগরদিঘির এই তৃণমূল প্রার্থীর আবার চমকপ্রদ ‘দলবদলের’-ও ইতিহাস রয়েছে।
২০২৩ উপনির্বাচনে বাম-কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে তৃণমূলকে পরাজিত করেন তিনি। কিন্তু ফল ঘোষণার তিন মাসের মধ্যে খেলা ঘুরিয়ে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন বায়রন। এবার ছাব্বিশের ভোটের ঠিক আগে তাঁর মুখে শোনা গিয়েছিল অধীর চৌধুরীর ভূয়সী প্রশংসা। অধীরকে নিজের ‘রাজনৈতিক গুরু’ বলে উল্লেখ করেছিলেন বায়রন (Byron Biswas)। এবার তাই ফলাফলের আগেই তাঁর ‘আমি হারছি’ মন্তব্যে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।


