Aaj India Desk, কলকাতা : পয়লা বৈশাখের সকালে উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছে গোটা বাংলা। চারদিকে শুভেচ্ছা বার্তায় ভরে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া। কিন্তু এই উৎসবের মধ্যেই রাজনীতির সুর স্পষ্ট হয়ে উঠল বাংলার মাটিতে। নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েই ‘SIR’ ইস্যুতে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি (Mamata Banerjee)।
নববর্ষে রাজনৈতিক বার্তা
পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে একটি ভিডিও বার্তায় নববর্ষের ‘শুভনন্দন’ জানিয়ে নাম না নিয়েই বিজেপিকে লক্ষ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কিছু অশুভ শক্তি বাংলাকে কলুষিত করার চেষ্টা করছে। দিল্লির শাসকরা মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে। মনে রাখবেন, এর জবাব গণতান্ত্রিকভাবেই দিতে হবে।” তিনি বাংলার মানুষদের আহ্বান জানান, “এই দিনে সকলকে সংকীর্ণতা ভেঙে ঐক্যের শপথ নিতে হবে, যাতে বিভাজনমূলক শক্তি বাংলার শান্তি ও সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে।”
মুখ্যমন্ত্রীর পোস্ট : https://x.com/i/status/2044250026894082115
অন্যদিকে একই দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বাংলা ভাষায় শুভেচ্ছা বার্তা দেন। তিনি লেখেন, “নতুন বছরে আপনাদের সব ইচ্ছা পূরণ হোক। এই সময় পশ্চিমবঙ্গের চিরন্তন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদযাপনের।”
ভোটের আগে উত্তপ্ত রাজনীতি
আগামী সপ্তাহেই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনের ট্রাম্প কার্ড হিসেবে SIR ইস্যুকে হাতিয়ার করে তুলে ধরেছে তৃনমূল কংগ্রেস। লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ায় ভোটের আগে ‘SIR’ বা ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হয়েছে। সেই বিতর্ককেই কাজে লাগাচ্ছে শাসক দল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, পয়লা বৈশাখের এই বিশেষ দিনে মুখ্যমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা শুধুমাত্র নববর্ষের শুভেচ্ছা নয়, বরং বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ‘SIR’ ইস্যুকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর এই আক্রমণাত্মক অবস্থান রাজ্যের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের অংশ বলে মনে করছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নববর্ষের মতো সাংস্কৃতিক উৎসবের মধ্যেও এই ধরনের রাজনৈতিক বার্তা বাংলার জনগণকে ভোটের আগে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা। একইসঙ্গে এটি আগামী দিনে রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও জল্পনা চলছে রাজনৈতিক মহলে।


