Aaj India Desk, কলকাতা : উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভোটের আগে বাড়ছে প্রচারের উত্তাপ। সভা-মিছিল-রোড শোতে ব্যস্ত সব দল। তবে এই দৃশ্যের আড়ালে আরও বড় এক লড়াই চলেছে নিঃশব্দে। রাজবংশী (Rajbangshi) ভোটারদের সমর্থন কাদের দিকে ঝুঁকবে, তা নিয়েই নির্ধারিত হতে পারে একাধিক আসনের ফলাফল। ৫৪টি আসনের মধ্যে অন্তত ২২টিতে রাজবংশীদের প্রভাব থাকায়, এই ভোটব্যাঙ্ক ঘিরেই এখন কৌশল সাজাচ্ছে তৃণমূল ও বিজেপি।
উত্তরবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে রাজবংশী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে তাদের সংগঠন ও ভোটভিত্তি দৃঢ়। তাই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই অঞ্চল ধরে রাখা বিজেপির কাছে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, গত কয়েক বছরে উত্তরবঙ্গে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে সক্রিয় হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
উত্তরবঙ্গ থেকেই তৃনমূলের প্রচার
এই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গ থেকেই প্রচার শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২৪ মার্চ ময়নাগুড়িতে সভা দিয়ে তাঁর সফর শুরু হবে। এরপর মাতিগাড়া-নকশালবাড়ি ও আলিপুরদুয়ারের মতো রাজবংশী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে সভা রয়েছে। একইসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও উত্তরবঙ্গে ধারাবাহিক সভা করছেন। ২৬ মার্চ কোচবিহারের নাটাবাড়ি থেকে শুরু করে ধূপগুড়ি, কালচিনি সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে তাঁর কর্মসূচি রয়েছে। ৩১ মার্চ আবার শীতলকুচি, রাজগঞ্জ ও ফালাকাটাতেও সভা নির্ধারিত।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজবংশী (Rajbangshi) ভোট টানতে তৃণমূল একাধিক প্রতীকী ও বাস্তব পদক্ষেপ নিয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম, বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান প্রদান। এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই রাজবংশী সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
পুরনো ভিত্তিতে ভরসা বিজেপির
অন্যদিকে, বিজেপি নিজেদের পুরনো ভিত্তির ওপরই ভরসা রাখছে। দলের নেতাদের দাবি, রাজবংশী সমাজ এখনও তাদের সঙ্গেই রয়েছে এবং উন্নয়ন ও পরিচয় রাজনীতির প্রশ্নে তারা বিজেপির পাশে থাকবে। শিলিগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব বলেছেন, “রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের ফলে মানুষের সমর্থন আমাদের দিকেই আসছে।” বিপরীতে, বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষের দাবি, “রাজবংশী সমাজ বঞ্চিত, এবং তারা এখনও বিজেপির ওপরই আস্থা রাখছে।”
উন্নয়ন বনাম বঞ্চনার দাবি
বিশ্লেষণে উঠে আসছে, উত্তরবঙ্গে লড়াই শুধু উন্নয়ন বনাম বঞ্চনার নয়, বরং পরিচয়, সম্মান ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নও সমানভাবে প্রভাব ফেলছে। রাজবংশী (Rajbangshi) সমাজের মধ্যে বিভিন্ন সংগঠন ও দাবিদাওয়াও এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হতে পারে। ২৩ এপ্রিল উত্তরবঙ্গের আসনগুলিতে ভোটগ্রহণ। তার আগে শেষ মুহূর্তের প্রচারে কে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, এবং শেষ পর্যন্ত রাজবংশী ভোট কোন দিকে যায় সেই দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


