কলকাতা: সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, উনি কি বিরোধী দলনেত্রী হিসেবে বেশি স্বাচ্ছন্দ? সেই প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, বর্তমান রাজনীতিতে তাঁদের অবস্থা “বিরোধীদের থেকেও খারাপ”! কেন্দ্র সরকারের “অত্যাচার”, “অনাচারের” বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দু-দশক আগের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই (Mamata Banerjee) যেন ফিরে পেল ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেল।
২০০৬-এর ডিসেম্বরে এই মেট্রো চ্যালেনেই সিঙ্গুর আন্দোলনে ২৬ দিনের অনশন করেছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) । রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, সিঙ্গুর আন্দোলনের মাধ্যমেই ৩৪ বছরের বাম-শাসনের পতনের ডঙ্কা বাজিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দীর্ঘ ২০ বছর পর সেই ধর্মতলা চত্বর, সেই প্রতিবাদ মঞ্চ, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তফাৎ শুধু, বর্তমানে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সেই সময় তিনি ছিলেন বিরোধী এনডিএ জোটের শরীক। ছাব্বিশ দিনের অনশনে তাঁর পাশে ছিল বিজেপি। আর বর্তমানে সেই বিজেপির বিরুদ্ধে ধর্নায় বসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) । কেন্দ্রের বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শুক্রবার ধর্নামঞ্চেই রাত্রিযাপনের সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।
আগামীকাল সকালে আসবেন অন্যান্য মন্ত্রীরা
শুক্রবার দুপুর ২ টো নাগাদ ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলের ধর্নামঞ্চে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) । এরপর বিকেলের দিকে প্ল্যাকার্ড হাতে আন্দোলনকারী পার্শ্বশিক্ষকরা উপস্থিত হলে তাঁদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। সন্ধের পর থেকে এসআইআর-বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়ান মমতা-অভিষেক। ভাগ্নেগে বাহবা জানান মুখ্যমন্ত্রী। পা ছুঁয়ে পিসি তথা রাজনৈতিক গুরুকে প্রণাম করতে দেখা যায় অভিষেককে।
রাত ৮ টার পর সভামঞ্চের আলো নেভে। কিন্তু মঞ্চের পেছনেই এক জায়গায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শনিবার সকাল ১০ টা থেকে ধর্নামঞ্চে একে একে হাজির হবেন নেতা-মন্ত্রীরা। ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে থাকলেও এ যেন দুই দশক আগের সেই বিরোধী দলনেত্রী মমতা, এমনটাই বলছেন, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।


