Aaj India desk, মুম্বই: “সিনেমা শেষ হওয়ার পরও মাথায় ঘুরছিল একটাই প্রশ্ন—এটা কি শুধু সিনেমা, নাকি আমাদের সমাজের নির্মম বাস্তবের সামনে দাঁড় করানো এক আয়না?” বড় পর্দায় আদালতঘরের গল্প নতুন কিছু নয়। কিন্তু আশি (Assi) কি সেই পরিচিত ছকে বাঁধা সিনেমা? না!কারণ এই ছবি শুধু আইন আর যুক্তির লড়াই দেখায় না, বরং এমন কিছু প্রশ্ন তুলে ধরে যা অস্বস্তিকর হলেও এড়িয়ে যাওয়া যায় না।
তাহলে কি এটি নিছক বিনোদনের ছবি?
সম্ভবত নয়। বরং এটি এমন এক সিনেমা, যা দর্শককে ভাবতে বাধ্য করে। তাহলে ন্যায়বিচার কি সত্যিই কেবল আদালতের ঘরেই নির্ধারিত হয়, নাকি সমাজের মানসিকতাও সেখানে সমান গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতের বাস্তবতা বলছে, দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় “৮০টি ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়”। প্রশ্ন জাগে—এই ভয়াবহ বাস্তব কি সিনেমার পর্দায় তুলে ধরা সম্ভব? দেখতে গেলে ‘আশি’ (Assi) সেই কঠিন চেষ্টাটাই করেছে। এখানে অপরাধের গল্পের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে সমাজের প্রতিক্রিয়া। আর তখনই সামনে আসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
ভুক্তভোগী কি শুধু আইনের লড়াই লড়েন, নাকি সমাজের চোখের সঙ্গেও যুদ্ধ করেন? ছবিটিতে যেন ইঙ্গিত দেয় এইটাই যে দ্বিতীয় লড়াইটাই অনেক সময় আরও কঠিন। গল্পের গভীরে না গিয়েও একটি বিষয় স্পষ্ট যে এই ছবি আর পাঁচটা বাণিজ্যিক ছবির মতো নয়।
তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—’আশি’ (Assi) আসলে কী বলতে চায়? উত্তরটা সহজ—এটি যেন এক সামাজিক প্রশ্নপত্র। যেখানে উঠে আসে ভিকটিম ব্লেমিং, পিতৃতন্ত্র এবং বিচারব্যবস্থার জটিল বাস্তবতা।
তারপর আসি ন্যায়ের কণ্ঠস্বর “তাপসী পান্নু” এই ছবির সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে তাপসী পান্নু (Taapsee Pannu)। একজন আইনজীবীর চরিত্রে তাঁর উপস্থিতি দৃঢ় এবং সংযত। প্রশ্ন উঠতেই পারে—এই চরিত্রে তাপসীর বিশেষত্ব কোথায় বা তাকেই বা কেন নেওয়া হয়েছে?
উত্তর হচ্ছে তাঁর অভিনয়ের সংযমে। আদালতের তীব্র দৃশ্যেও তিনি আবেগকে অতিরঞ্জিত করেন না, বরং যুক্তির দৃঢ়তায় চরিত্রকে এগিয়ে নিয়ে যান। এর আগে Pink বা Thappad-এর মতো ছবিতে তিনি যেভাবে সমাজের কঠিন প্রশ্ন তুলে ধরেছেন, এখানেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় আছে।
তাই বলা যেতে পারে —এখানে তাপসী (Taapsee Paanu) শুধু অভিনেত্রী নন, তিনি যেন আদালতে দাঁড়িয়ে থাকা সমাজের বিবেক। এ ছাড়া-
কি চলে?
সাহসী ও প্রাসঙ্গিক, বিষয়বাস্তবঘন আদালত নাটক ও শক্তিশালী অভিনয় ।
কি চলে না?
গল্পের আবেগ অনেক সময় ভারী হয়ে ওঠে এবং এটি নিছক “উইকেন্ড পপকর্ন” সিনেমা নয়।
কেন আশি (Assi) দেখা সহজ নয়? কারণ এই ছবি দর্শককে স্বস্তি দেয় না। প্রশ্ন উঠতে পারে—কেন? কারণ এটি বাস্তবের কঠিন সত্যকে সামনে নিয়ে আসে এবং দর্শককে ভাবতে বাধ্য করে।
শেষ পর্যন্ত মনে হয়— ‘আশি’ (Assi) শেষ হলে গল্প শেষ হয় না বরং থেকে যায় প্রচুর প্রশ্ন। এই ছবি হয়তো নিছক বিনোদন নয়, হয়তো ব্লকবাস্টার হওয়ার জন্য তৈরি হয়নি কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত যে সমাজকে আয়নায় দেখানোর সাহস এই ছবির রয়েছে।


