মুর্শিদাবাদ: যে বাবরি মসজিদ নিয়ে এত হট্টগোল, ছাব্বিশের ভোটে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে তুরুপের তাস, এমনকি আগামী ৬ ডিসেম্বর রেজিনগরে বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠা দিবসে রাস্তা অবরোধের হুংকার, সেই বাবরি মসজিদ নিয়েই আচমকা সুর নরম হয়ে গেল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির একমাত্র বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের (Humayun Kabir)! রাজনীতির ময়দানে তাঁকে চেনা যায় চ্যালেঞ্জ, হুঙ্কার আর একরোখা অবস্থানের জন্য। বাবরি মসজিদ নিয়ে তাঁর অনড় মনোভাবও এতদিন ছিল শিরোনামে। কিন্তু এবার যেন সুর কিছুটা অন্যরকম! কিন্তু হঠাৎ কেন নমনীয় হচ্ছেন হুমায়ুন? নাকি রাজনীতির দাবার বোর্ডে এবার তাঁর নতুন চাল?
৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠা দিবস ইস্যুতে বাংলার রাজনীতি যখন ফের উত্তপ্ত, তখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মসজিদ তৈরি নিয়ে আপত্তি না থাকলেও বাবরের নামে মসজিদ তৈরির অনুমতি দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্য, মুর্শিদাবাদের কোনও বিশিষ্ট ব্যক্তির নামে মসজিদ হলে আপত্তি নেই, কিন্তু বাবরের নাম হলে সরকারি অনুমোদন মিলবে না।
এখানেই তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক কৌতূহল। যে হুমায়ুন (Humayun Kabir) এতদিন ‘বাবরি’ নামকে কেন্দ্র করেই নিজের রাজনৈতিক অবস্থান জোরালো করেছেন, তিনি কি এবার শুভেন্দুর শর্তকেই গুরুত্ব দিতে চলেছেন?
হুমায়ুনের রাজনীতিতে কি তবে ‘নামবদলের’ হাওয়া?
ঘটনাটা একটু খতিয়ে দেখলে অবশ্য অন্য ছবিও সামনে আসে। হুমায়ুন (Humayun Kabir) এর আগেও ট্রাস্টের নাম বদলানোর প্রসঙ্গে জানিয়েছিলেন, প্রশাসনিক কারণে ট্রাস্টের নাম পরিবর্তন করা হতে পারে, কিন্তু মসজিদের নাম বদলের প্রশ্নে তিনি অনড়। অর্থাৎ ট্রাস্টের নাম আর মসজিদের নামকে তিনি আলাদা করে দেখেছেন।
অন্যদিকে, ৫ নভেম্বরের শুভেন্দুর বক্তব্যে আপত্তির জায়গাটি আরও স্পষ্ট। মসজিদ নির্মাণ নয়, আপত্তি বাবরের নামেই। বাবরের নাম বাদ দিয়ে মুর্শিদাবাদের কোনও বিশিষ্ট ব্যক্তির নামে মসজিদ করার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।
তাহলে হঠাৎ কী হল?
এখানে রয়েছে রাজনীতির আসল কৌতূহল। একদিকে বাবরি মসজিদকে ঘিরে হুমায়ুনের (Humayun Kabir) রাজনৈতিক পরিচিতি, অন্যদিকে শুভেন্দু সরকারের অনুমোদনের প্রশ্ন। তার উপর আগামী ৬ ডিসেম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়ে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি করেছেন হুমায়ুন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে প্রশ্ন উঠতেই পারে, হুমায়ুন (Humayun Kabir) কি এবার নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও বাস্তব প্রশাসনিক পরিস্থিতির মধ্যে সমীকরণ মেলাতে চাইছেন? নাকি শুভেন্দুর আপত্তিকে কেন্দ্র করেই নতুন করে প্রচারের আলোয় থাকতে চাইছেন?
তাই রাজনীতির এই পর্বে তাই প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে, বাবরি নামেই অনড় থাকবেন হুমায়ুন, নাকি শেষ পর্যন্ত নামের লড়াইয়ে নতুন কোনও চমক দেবেন? উত্তর দেবে আগামী দিনের রাজনীতি!


