Aaj India Desk, কলকাতা: রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব এবার পড়েছে বাংলা বিনোদন জগতেও। টলিউডে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সংগঠনকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় বদলের ইঙ্গিত মিলছে। নতুন করে সংগঠন গঠন, শিল্পীদের কাজের সুযোগ এবং ফেডারেশনের নির্বাচন ঘিরে একাধিক প্রশ্ন সামনে আসছে। এই আবহেই গোটা পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী (Papia Adhikari)। বিশেষ করে মিঠুন চক্রবর্তীকে (Mithun Chakraborty) ঘিরে তাঁর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে
কনফেডারেশন গঠন নিয়ে কী সমস্যা?
টলিউডের পুরনো কাঠামোর পরিবর্তে একটি নতুন কনফেডারেশন (EIMPCC) চালু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন পাপিয়া। তাঁর বক্তব্য, এই প্রস্তাবের বিষয়টি মিঠুন চক্রবর্তীর কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারেননি তিনি। বিষয়টি নিয়ে মিঠুনের পাল্টা প্রশ্ন ছিল, তাঁকে কি ছোট শিশু মনে করা হচ্ছে যে তিনি কিছু বুঝবেন না? এই প্রসঙ্গে পাপিয়া জানান, মিঠুনদার সঙ্গে সরাসরি কথা বলে বিষয়টি মিটিয়ে নেবেন।
তাঁর দাবি, অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) এবং জর্জ বেকার (George Baker) অতীতে এই ধরনের একটি সংগঠন তৈরি করেছিলেন। পরে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পৃথক সংগঠন তৈরির পরিকল্পনা আর এগোয়নি।
ভোটের পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি
নির্বাচন পরিচালনায় মিঠুনের ভূমিকা স্বীকার করলেও গোটা ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তুষ্ট নন পাপিয়া। তাঁর মতে, নির্বাচন সম্পন্ন হলেও পদ্ধতির মধ্যে কিছু সমস্যা রয়েছে। নমিনেশন এবং ভোটদানের ক্ষেত্রে এমন কিছু ব্যক্তির অংশগ্রহণ নিয়ে তাঁর উদ্বেগ রয়েছে, যাঁদের সম্পর্কে মিঠুনের যথেষ্ট পরিচিতি নেই। অতীতে যাঁদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছিল, তাঁরা ফের সক্রিয় হলে তার দায় তাঁকেই সামলাতে হতে পারে বলে মনে করছেন বিধায়ক।
বাংলা ছবির সংখ্যা কমার কারণ কী?
প্রাক্তন ফেডারেশনের ভূমিকা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেছেন পাপিয়া। তাঁর অভিযোগ, আগের কর্তাব্যক্তিদের অনেকেরই চলচ্চিত্রের কাজ সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা ছিল না। তাঁর দাবি, বাংলা ছবির উৎপাদন সংখ্যা কমে প্রায় ২০-তে নেমে এসেছিল। পরিস্থিতির চাপে অভিনেতাদেরও নিজেদের প্রযোজনা সংস্থা খুলতে হয়েছে। এমনকি ‘দৃশ্যম ৩’ (Drishyam 3)-এর প্রযোজক কলকাতায় শুটিংয়ের সময় পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ার কথা তাঁকে জানিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, কাজের সুযোগ নিয়ে আশ্বাসের কথাও জানিয়েছেন পাপিয়া। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন মিটলে মিঠুন চক্রবর্তী সকলকে নিয়ে আলোচনায় বসবেন এবং কোনও শিল্পীর নাম কাজের তালিকা থেকে বাদ পড়বে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেই আশ্বাস বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর টলিউডের।


