কলকাতা: রক্ত চাই! কিন্তু রক্ত কোথায়? বাংলার ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে (Blood Bank) এখন রীতিমতো টানাটানি। একদিকে রক্তের মজুত কমছে, অন্যদিকে প্রতিদিন বাড়ছে রোগীর প্রয়োজন। অথচ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি, রাজ্যে রক্তের কোনও ঘাটতিই নেই! তাহলে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে রক্তের জন্য ছোটাছুটি করছেন কেন রোগীর পরিজনেরা?
পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যজুড়ে রক্তের মজুত (Blood Bank) ১০ হাজার ইউনিটেরও নিচে। অথচ প্রতিদিন বাংলায় প্রয়োজন প্রায় ৩ হাজার ইউনিট রক্ত। কলকাতার ছবিটা আরও উদ্বেগজনক। শনিবারের হিসাব অনুযায়ী, শহরের ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে (Blood Bank) মজুত মাত্র ৫৬০ ইউনিট! থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের নিয়মিত রক্ত দেওয়া, ক্যানসার রোগীর চিকিৎসা, জটিল অস্ত্রোপচার কিংবা দুর্ঘটনায় আহতদের প্রাণ বাঁচানো, সব ক্ষেত্রেই প্রয়োজন রক্ত। কিন্তু সেই রক্ত জোগাড় করতেই এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে।
শনিবার রাতের ঘটনাই পরিস্থিতির একটা ছবি তুলে ধরেছে। নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে এক রোগীর অস্ত্রোপচারের জন্য রক্ত না মেলায় শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয় বরাহনগরের বিধায়ক সজল ঘোষকে। তাঁর উদ্যোগে সমস্যা মিটলেও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি, একজন বিধায়ক হয়েও যদি এভাবে রক্তের জন্য ছুটতে হয়, সাধারণ মানুষের কী অবস্থা?
অন্যদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, রাজ্যে রক্তের (Blood Bank) ঘাটতি নেই। বিরল গ্রুপের রক্ত পেতে সমস্যা হলে মানিকতলা সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাঙ্কে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
কিন্তু রক্তদান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তদের আশঙ্কা, রক্ত পাচারের অভিযোগ ঘিরে মানুষের মনে তৈরি হয়েছে ভয়। তার উপর ক্লাবগুলিতে কমিটি বদলের জেরে নিয়মিত রক্তদান শিবিরও ধাক্কা খাচ্ছে। অথচ সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কে (Blood Bank) সংগৃহীত রক্তের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে এই শিবিরগুলি থেকে।
একদিকে মজুত কমার পরিসংখ্যান, অন্যদিকে ঘাটতি নেই বলে সরকারি আশ্বাস, দুইয়ের মাঝে পড়ে উদ্বেগে রোগীর পরিবার। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, জরুরি মুহূর্তে এক ব্যাগ রক্তের নিশ্চয়তা কোথায়? কারণ রক্তের অভাব শুধু পরিসংখ্যানের সমস্যা নয়, কারও কাছে সেটাই জীবন-মৃত্যুর লড়াই!


