Aaj India Desk, কলকাতা: হকি বেঙ্গলের বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম ঘিরে এবার সামনে এল একাধিক বিতর্ক। জেলবন্দি প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে (Sujit Bose) ফের সংগঠনের সভাপতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন করে বিতর্ক।
পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গত ১১ মে ইডির (ED) হাতে গ্রেফতার হন সুজিত বসু। তারপর থেকে তিনি জেলেই রয়েছেন। তাঁর জামিনের আবেদনও খারিজ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)। এরই মধ্যে গত ১৪ অক্টোবর হকি বেঙ্গলের একটি এজিএম অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ, সেই বৈঠকে একাধিক নিয়ম না মেনেই সুজিত বসুকে ফের সভাপতি হিসেবে দেখানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে হকি বেঙ্গলের সভাপতি হন সুজিত বসু। তাঁর গ্রেফতারির পর ওই দায়িত্ব পান সংগঠনের তৎকালীন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নন্দকিশোর রাই। কিন্তু অভিযোগ, ১৪ অক্টোবরের এজিএমের কার্যবিবরণীতে ফের সুজিতের নাম সভাপতির তালিকায় রাখা হয়েছে। অথচ ওই বৈঠকের কোনও নোটিসই পাননি বলে দাবি করেছেন নন্দকিশোর। সংগঠনের একাধিক পদাধিকারীও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রেজিস্ট্রার অফ ফার্মস, সোসাইটিজ অ্যান্ড নন-ট্রেডিং কর্পোরেশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন নন্দকিশোর। তাঁর দাবি, শুধু সভাপতি নির্বাচন নয়, সংগঠনের আর্থিক লেনদেন নিয়েও একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। নন্দকিশোরের অভিযোগ, হকি ইন্ডিয়ার তরফে বাংলায় হকির উন্নয়নের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল, তার ব্যবহার নিয়ে আগে থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল। ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন জেলায় হকির প্রসারে প্রায় ৯ থেকে ১০ লক্ষ টাকা খরচের হিসাব দেখানো হলেও বাস্তবে সেই কাজ হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। পাশাপাশি, ২০২১-২২ সালে মহিলা বিভাগীয় জাতীয় হকি প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য রাজ্য সরকারের দেওয়া প্রায় ৫০ লক্ষ টাকারও অধিকাংশের ব্যবহারে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
এমনকী, সংগঠনের বর্তমান সেক্রেটারি জেনারেল ইস্তিয়াক আলির পদে থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নন্দকিশোর। তাঁর দাবি, এই সমস্ত অনিয়ম নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলার পরেই তাঁকে সরিয়ে সুজিত বসুকে ফের সভাপতির পদে বসানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইস্তিয়াক আলি। তাঁর বক্তব্য, গোটা প্রক্রিয়াই নিয়ম মেনে হয়েছে। নতুন স্পোর্টস কোড অনুযায়ী ২০২৮ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি বেছে নেওয়ার কথা। তার আগে সুজিত বসুকে সরাতে হলে তাঁকে আইনি ভাবে দোষী সাব্যস্ত হতে হবে অথবা নিয়ম মেনে নোটিস দিতে হবে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনও প্রমাণিত হয়নি বলেও দাবি করেছেন ইস্তিয়াক। এজিএম ডাকার ক্ষেত্রেও কোনও নিয়ম ভাঙা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, হকি বেঙ্গলের প্রাক্তন সভাপতি স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তবে জেলবন্দি অবস্থায় সুজিত বসুকে ফের সভাপতি করা হয়ে থাকলে তা নিয়মবিরুদ্ধ বলেই মনে করেন তিনি। সংগঠনের যুগ্ম সচিব সুরভি মিত্রও এজিএমের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সব মিলিয়ে, হকি বেঙ্গলের সভাপতি পদে সুজিত বসুর প্রত্যাবর্তন, এজিএমের বৈধতা এবং সংগঠনের আর্থিক লেনদেন—এই তিন বিষয় ঘিরে এখন তৈরি হয়েছে জোর বিতর্ক।


