Aaj India Desk, জয়পুর: রাজস্থানের এক IAS-IPS আধিকারিক দম্পতির বিপুল সম্পত্তি এবং আর্থিক লেনদেন ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সিনিয়র IAS আধিকারিক শিখর আগরওয়াল এবং তাঁর স্ত্রী IPS আধিকারিক প্রশাখা মাথুরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্তের অনুমতি দিয়েছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই গোটা বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দুর্নীতি দমন শাখা (ACB)-কে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত দু’জনকেই ওয়েটিং ফর পোস্টিং অর্ডারস (APO)-তে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ, গত আড়াই বছরে রাজস্থানের উদয়পুর ও আলওয়ারে দুটি বিলাসবহুল রিসর্টের মোট ৪০টি সম্পত্তি কিনেছিলেন ওই আমলা দম্পতি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। এর মধ্যে উদয়পুরের বুজঝায় রয়েছে ২০টি কটেজ এবং আলওয়ারের আজবগড়ে রয়েছে ২০টি ভিলা। এই সম্পত্তিগুলি কিনতে মোট খরচ হয়েছিল প্রায় ৬ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা। সম্পত্তিগুলি কেনা হয়েছিল গোয়েল ফ্যাশনস প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি সংস্থার কাছ থেকে। তবে এখানেই শেষ নয়। অভিযোগ, কেনার পরেই সেই একই সংস্থাকে সম্পত্তিগুলি লিজে দিয়ে দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী, বছরে ভাড়া বাবদ প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা পাওয়ার কথা ছিল। উদয়পুরের কটেজ থেকে ৮০ লক্ষ এবং আলওয়ারের ভিলা থেকে ১ কোটি টাকা বার্ষিক আয়ের ব্যবস্থা ছিল বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, সরকারি পদে থাকাকালীন শিখর আগরওয়াল ওই বেসরকারি সংস্থাকে কোনও বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন কি না। শিল্প দফতর এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে তাঁর দায়িত্ব সামলানোর সময় সংস্থাটি কোনও অতিরিক্ত প্রশাসনিক বা আর্থিক সুবিধা পেয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে নির্মাণের অনুমতি, সরকারি ছাড়পত্র এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত সুবিধার বিষয়গুলি তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে আরও কিছু অসঙ্গতির ইঙ্গিত মিলেছে। অভিযোগ, কয়েকটি ভিলা কেনার সময় রেজিস্ট্রেশনের নথিতে সম্পত্তির দাম প্রকৃত বাজারমূল্যের তুলনায় কম দেখানো হয়েছিল। পাশাপাশি, কয়েকটি সম্পত্তির বিক্রির দলিল চূড়ান্ত হওয়ার দিনই সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি সরকারি আর্থিক সুবিধা পেয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী IAS এবং IPS আধিকারিকদের প্রতি বছর নিজেদের সম্পত্তির হিসাব জমা দিতে হয়। কিন্তু অভিযোগ, ৪০টি সম্পত্তি শিখর আগরওয়াল, প্রশাখা মাথুর, তাঁদের দুই প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে এবং প্রশাখার বাবা-মায়ের নামে কেনা হলেও বার্ষিক সম্পত্তির বিবরণীতে তার সম্পূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি।
দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ১৭এ ধারা মেনে এই তদন্তের অনুমতি দিয়েছে রাজ্য সরকার। সম্পত্তি কেনার টাকার উৎস, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক লেনদেনে কোনও অনিয়ম এবং আয়ের সঙ্গে সম্পত্তির সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, সব দিকই খতিয়ে দেখবেন তদন্তকারীরা। এখন তদন্তে কী কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই নজর।


