Aaj lndia Desk, কলকাতা: সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানের দুর্গাপুজো মণ্ডপে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার তদন্তে আরও তৎপর বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। ১৯ জনের প্রাণহানির কারণ খুঁজতে শনিবার ফের একাধিক ব্যক্তির বক্তব্য শুনলেন তদন্তকারীরা। দ্বিতীয় দফার এই জিজ্ঞাসাবাদে ছিলেন পুলিশ ও দমকল বিভাগের আধিকারিকরা। তবে তদন্তের পরিধি এখানেই থেমে থাকছে না। প্রয়োজন পড়লে মণ্ডপের থিমশিল্পী এবং আশপাশের বাসিন্দাদেরও ডেকে পাঠানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন সিটের প্রধান তথা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী (Anindita Roy Saraswati)।
নিরাপত্তার দায়িত্বে কারা ছিলেন, খতিয়ে দেখছে সিট
শনিবার প্রায় ১০ থেকে ১২ জনের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। বিপর্যয়ের দিন মণ্ডপের নিরাপত্তা কীভাবে পরিচালিত হচ্ছিল, ভিড় সামলানোর দায়িত্ব কার উপর ছিল এবং দমকল ও পুলিশের তরফে কী ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল, মূলত এই বিষয়গুলিই জানতে চেয়েছেন তদন্তকারীরা। সিট প্রধানের বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে তাঁরা সন্তুষ্ট। নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনেই এগোচ্ছে অনুসন্ধানের কাজ।
তদন্তের আওতায় আসতে পারেন থিমশিল্পীও
ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিভিন্ন দিক থেকে তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে তদন্তকারী দলের। মণ্ডপ তৈরির পরিকল্পনা, দর্শনার্থীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা কিংবা ভিড় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা ছিল কি না, তা বুঝতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সেই কারণেই প্রয়োজনে থিমশিল্পী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলতে চায় সিট।
ঘটনার আগের ১৫ মিনিটের CCTV ফুটেজে নজর
উল্লেখ্য, সপ্তমীর দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে বিপর্যয় ঘটে। বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর এক্সিট গেটের সামনে দর্শনার্থীদের জমায়েত বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। সেই সময় কয়েকজন মাটিতে পড়ে গেলে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। প্রাণ হারান ১৯ জন, আহত হন আরও অনেকে। গেট থেকে মাত্র ১১ ফুট দূরেই বিপর্যয়টি ঘটেছিল বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার রহস্য উন্মোচনে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ থেকে ৭টা ৩০ মিনিটের CCTV ফুটেজকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যে ২২ অক্টোবর ঘটনাস্থলে গিয়ে ছবি, ভিডিও, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং অত্যাধুনিক থ্রিডি (3D) স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনার পুনর্নির্মাণও করেন তাঁরা। ধৃত ঘোষক সেন্টু (Sentu)-কে মণ্ডপে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এবার পরবর্তী দফার তদন্তে কোন নতুন তথ্য উঠে আসে, সেটাই দেখার।


