Aaj lndia Desk, কলকাতা: নেপালের বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় নতুন করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এবার উদ্বেগের কারণ ভুটান। সেখানকার শিনটাফু লেক (Shintaphu Lake) ভেঙে বিপুল পরিমাণ জল নেমে আসার ঘটনায় চিন্তা বেড়েছে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চল এবং অসমের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে। প্রাথমিক ধারণায় , হ্রদ থেকে প্রায় ৭৪ লক্ষ ঘনমিটার জল বেরিয়ে মো নদী (Mo River)-তে প্রবাহিত হয়েছে। এই জলস্রোত পরবর্তী সময়ে সমতলের নদীগুলিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই এখন নজর প্রশাসনের।
নদীর জল বাড়ার আশঙ্কা, রাতেই শুরু সতর্কবার্তা
ভুটান থেকে নেমে আসা জলের সম্ভাব্য প্রভাব পড়তে পারে সঙ্কোশ নদী (Sankosh River)-তে। এই পরিস্থিতিতে কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারের নদী তীরবর্তী বসতিগুলিকে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। বক্সিরহাটের রামপুর-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার একাধিক গ্রামে গভীর রাত থেকেই প্রচার চালায় প্রশাসন। মাইকে ঘোষণা করে স্থানীয়দের নিরাপদ জায়গায় চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সম্ভাব্য বিপদের কথা মাথায় রেখে অনেক বাসিন্দাই পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি গবাদি পশু নিয়েও বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছিল, পাহাড়ি জলস্রোত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় পৌঁছতে পারে।
কোচবিহার থেকে ধুবড়ি, নজরদারি বাড়াল প্রশাসন
সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোচবিহার (Cooch Behar) এবং অসমের ধুবড়ি (Dhubri) জেলায় সতর্কতা জারি হয়েছে। অন্যদিকে, আলিপুরদুয়ারেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ (Manoj Oraon) ভিডিও বার্তার মাধ্যমে পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকও জানিয়েছেন, বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। উদ্ধারকাজের প্রয়োজনে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF) এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)-কে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ভুটানের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েও উদ্বেগ
পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে ভুটানের অভ্যন্তরেও সতর্কতা জারি হয়েছে। বিশেষ নজরে রয়েছে ভারত ও ভুটানের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত পুনাটসাংছু (Punatsangchhu) জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। নদীর জল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে প্রকল্পটির পরিকাঠামোর উপর চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা। ভুটানের নদীপ্রবাহ সমতলে এসে সঙ্কোশ নদীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় ভারতীয় প্রশাসনের কাছেও ওপারের পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, সম্ভাব্য জলস্ফীতির আশঙ্কায় উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় সতর্ক নজরদারি চলছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া এবং উদ্ধারকাজ শুরু করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।


