Aaj lndia Desk, কলকাতা: ব্যাঙ্কের বিপুল অঙ্কের ঋণ নিয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। সেই সূত্র ধরেই শুক্রবার সকাল থেকে কলকাতা (Kolkata) এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে একযোগে তদন্তে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই অভিযান ঘিরে সকাল থেকেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে। তদন্তের মূল নিশানায় রয়েছে শিল্পগোষ্ঠী কোহিনূর গ্রুপ (Kohinoor Group)। অভিযোগ, বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়ার পর সেই অর্থের ব্যবহারে একাধিক আর্থিক অনিয়ম হয়েছে।
ভোর হতেই চার ঠিকানায় পৌঁছে যায় ED-র দল
শুক্রবার সকাল থেকেই একাধিক দলে ভাগ হয়ে অভিযান শুরু করেন ইডি আধিকারিকরা। কলকাতা ও সংলগ্ন জেলার মোট চারটি গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানায় এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। তদন্তকারীদের অভিযানের তালিকায় রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার (North 24 Parganas) লেকটাউন (Lake Town), হাওড়া (Howrah) শহরের কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকা এবং হুগলির (Hooghly) উত্তরপাড়া (Uttarpara)। প্রতিটি জায়গাতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে পৌঁছন তদন্তকারীরা। নিরাপত্তার ঘেরাটোপে শুরু হয় নথিপত্র খতিয়ে দেখার কাজ।
ঋণের টাকা কোথায় গেল, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা
তদন্তের সূত্রপাত কোহিনূর গ্রুপের বিরুদ্ধে ওঠা কোটি কোটি টাকার ব্যাঙ্ক প্রতারণার অভিযোগ থেকে। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বড় অঙ্কের ঋণ সংগ্রহের পর সেই অর্থের প্রকৃত ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঋণের টাকা নির্ধারিত কাজে ব্যয় করা হয়েছিল, নাকি অন্য কোনও পথে সরিয়ে ফেলা হয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা।
ডিজিটাল নথি থেকে আর্থিক লেনদেন, নজরে একাধিক বিষয়
তল্লাশির অন্যতম লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নথি, সম্পত্তির কাগজপত্র এবং ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা। এই লেনদেনের সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার যোগাযোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, অভিযুক্ত আর্থিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্থ অন্যত্র পাচার করা হয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
তদন্তে কি সামনে আসবে নতুন কোনও তথ্য?
কোহিনূর গ্রুপের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নেপথ্যে কারা রয়েছেন এবং আর্থিক লেনদেনের প্রকৃত গতিপথ কী, সেই উত্তর খুঁজছে ইডি। তবে শুক্রবারের অভিযানে এখনও পর্যন্ত কী কী উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার তরফে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তল্লাশি ও তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন নজর রয়েছে।


