Aaj India Desk, কলকাতা: রায়গঞ্জে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী বিধায়কদের উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। দুর্গাপুজোর পর চোপড়ার বিধায়ক হামিদুর রহমানের (Hamidur Rahman) অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছিল। এবার কি সেই পথেই হাঁটছেন গোয়ালপোখরের গোলাম রব্বানী এবং চাকুলিয়ার বিধায়ক মিনহাজ আফরিন আজাদ (Minhaj Afrin Azad)? এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে।
রায়গঞ্জের প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না ইটাহারের তৃণমূল বিধায়ক মোশারফ হোসেন। একইভাবে বৈঠকে দেখা যায়নি চোপড়ার হামিদুর রহমান, গোয়ালপোখরের গোলাম রব্বানী এবং চাকুলিয়ার মিনহাজ আফরিন আজাদকে। একমাত্র ইসলামপুরের তৃণমূল বিধায়ক কানাইয়ালাল আগরওয়ালকে বৈঠকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
তবে এই অনুপস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মিনহাজ আফরিন আজাদ। তাঁর দাবি, তিনি প্রথম থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে রয়েছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই আছেন। তাঁর কথায়, কংগ্রেস থেকে শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণের প্রতিবাদেও তিনি মিছিল করেছেন বলে জানান। বিরোধী দলনেতার পক্ষে সই করলেও তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষেই রয়েছেন বলে দাবি করেন মিনহাজ। এমনকি, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে হলফনামাও জমা দিয়েছেন বলে জানান।
অন্যদিকে, প্রশাসনিক বৈঠকে অনুপস্থিত থাকার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন মোশারফ হোসেন। তাঁর দাবি, তাঁকে কোনও সরকারি আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এর আগে মালদহের প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁকে ডাকা হয়েছিল এবং তিনি উপস্থিতও ছিলেন। এবার কেন তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, তা তাঁর জানা নেই। প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরেও ডাক না পাওয়ায় তিনি বিধানসভায় চলে আসেন বলে জানান।
এদিকে, ঋতব্রতপন্থী একাধিক বিধায়কের অবস্থানেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে বলে সূত্রের খবর। কালীঘাটের তৃণমূল নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই কারা আবার দলে ফিরতে পারেন এবং কাদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা হবে, তা নিয়ে আলাদা তালিকা তৈরি করছে বলে জানা যাচ্ছে।
সূত্রের খবর, কাশেম সিদ্দিকী, তৌসিফউর রহমান এবং আব্দুল মাতিন ইতিমধ্যেই কালীঘাটে ফিরেছেন। অন্যদিকে, হামিদুর রহমান, কাজল শেখ এবং মিনহাজ আফরিন আজাদ-সহ আরও কয়েকজনের অবস্থানেও বদলের ইঙ্গিত মিলেছে। শিবির বদলানোর পর যাঁরা ফের তৃণমূলে ফিরতে চাইছেন, তাঁদের নিয়ে এখন আলোচনা চলছে।
তবে সকলকে যে দলে ফেরানো হবে, তা নিশ্চিত নয়। এর আগে ২১ জুলাই এবং ২৮ আগস্টের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা কয়েকজনকে দলে ফেরানোর বিষয়ে আপত্তির কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে কালীঘাট শিবিরের দাবি, কাদের আর দলে নেওয়া হবে না এবং কাদের ফেরানো হতে পারে, সেই দুই তালিকাই তৈরি করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, রায়গঞ্জের প্রশাসনিক বৈঠকে কারা এলেন আর কারা এলেন না, তা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। এখন নজর, যাঁরা ফের তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে চাইছেন, তাঁদের নিয়ে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয় কালীঘাট।


