Aaj India Desk, কলকাতা : চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে (Chorbagan Incident) ঠিক কী ঘটেছিল? কীভাবে ভিড়ের চাপে তৈরি হল বিপর্যয়, আর কেনই বা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেল না? ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা। তদন্তকারীদের বিশেষ নজরে রয়েছে ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭টা ১৫ থেকে ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ১৫ মিনিটের সিসিটিভি ফুটেজ। পুলিশের ধারণা, ওই ফুটেজে বিপর্যয়ের ঠিক আগের পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলতে পারে।
বিপর্যয়ের আগে কী ঘটেছিল?
তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, মণ্ডপে ভিড় বাড়তে থাকায় পুলিশকর্মীরা দর্শনার্থীদের বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাইকে ঘোষণা করা হয়েছিল, অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে মণ্ডপ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, সেই সতর্কবার্তার পরেও ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। (Chorbagan Incident)
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, একদিকে মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার জন্য ভিড় বাড়ছিল, অন্যদিকে বৃষ্টির কারণে এক্সিট গেটের কাছে থাকা দর্শনার্থীদের একাংশ বাইরে বেরোতে চাইছিলেন না। দুই দিকের চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
১৫ মিনিটের ফুটেজে নজর গোয়েন্দাদের
সন্ধ্যা ৭টা ১৫ থেকে ৭টা ৩০ মিনিটের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই সময়ের দৃশ্য বিশ্লেষণ করে ভিড়ের গতিবিধি, প্রবেশ ও বেরোনোর পরিস্থিতি এবং বিপর্যয়ের আগে কী ঘটেছিল, তা বোঝার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। ঘটনার দিন উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং কর্তব্যরত পুলিশকর্মী ও আধিকারিকদের সঙ্গে কথাও বলেছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের বয়ান এবং সিসিটিভি ফুটেজ মিলিয়ে ঘটনার ধারাবাহিকতা পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। (Chorbagan Incident)
ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
ভিড় সামলানোর দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় এসেছে। পুজো কমিটি এলাকার যুবকদের নিরাপত্তার কাজে নিয়োগ করেছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা জানতে পুজো কমিটির সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বদ্ধ মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে। দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু ও অসুস্থতার পিছনে এটি একটি সম্ভাব্য কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার পূর্ণ চিত্র সামনে আনার চেষ্টা করছে পুলিশ। ১৫ মিনিটের ফুটেজে বিপর্যয়ের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিললেও, চূড়ান্ত দায় নির্ধারণের জন্য তদন্তের ফলের অপেক্ষা করতে হবে।


