Aaj India Desk, কলকাতা : তৃনমূল আমলে একাধিকবার তোলাবাজি নিয়ে নানান অভিযোগ উঠলেও নিবার্চনের আগেই বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তোলাবাজি সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেও বেশ কয়েকবার বিজেপির বিধায়ক ও মন্ত্রীদের তোলাবাজি বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিতে শোনা গেছে। কিন্তু এর মধ্যেই গতকাল খোদ বিজেপির বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর (Papiya Adhikari) নাম ও ঘনিষ্ঠতার পরিচয় ব্যবহার করে টাকা আদায়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন তাঁরই প্রাক্তন ব্যক্তিগত সহকারী (PA) সায়ন্তন সান্যাল। পূর্ব বর্ধমানের এক ঠিকাদারের অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কী অভিযোগ উঠেছে?
পূর্ব বর্ধমানের রায়নার বাসিন্দা ঠিকাদার বিশ্বরূপ সাহা স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন কাজ করিয়ে দেওয়া এবং সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সায়ন্তন তাঁর কাছ থেকে ২২ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নামে পুলিশ। পুলিশের তদন্তে উঠে আসে যে, গত ৬ থেকে ৭ মাস ধরে পাপিয়া অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিধায়কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে টাকা আদায় করছিলেন সায়ন্তন। এই পরিচয় ব্যবহার করেই তিনি বিভিন্ন কাজ করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিতেন।
কী বলছেন পাপিয়া অধিকারী?
এই ঘটনা নিয়ে পাপিয়া অধিকারী (Papiya Adhikari) জানান, সায়ন্তনকে তিনি আগেই ব্যক্তিগত সহকারীর পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “আমি আগেই ওকে আমার ব্যক্তিগত সহকারীর পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছি। তার পর ও গ্রেপ্তার হয়েছে কি না, কী বিষয়, কী করেছে, সেটা ওর বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন।”
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের আগেই পাপিয়া অধিকারীর (Papiya Adhikari) সঙ্গে সায়ন্তনের পরিচয় ছিল। নির্বাচনের পরে তাঁকে ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর পাপিয়া অধিকারীর বক্তব্যে সায়ন্তন সান্যালকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা উঠে এলেও, ঠিক কী কারণে তাঁকে সরানো হয়েছিল, তা নিয়ে কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা মেলেনি। পাপিয়া অধিকারীর নাম ও ঘনিষ্ঠতার পরিচয় ব্যবহার করে মাসের পর মাস টাকা আদায় করা হলেও কেনো এই বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না বিধায়কের কাছে তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা।


