Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনের (ECI) কাজকর্ম এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে ওঠা অভিযোগে এবার কমিশনের জবাব তলব করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। এই মামলায় নির্বাচন কমিশনকে নোটিস পাঠিয়েছে শীর্ষ আদালত। মঙ্গলবার শুনানির পর আদালত হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য দু’সপ্তাহ সময় দিয়েছে। আগামী ১৭ নভেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। ভোট চুরির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ ইন্ডিয়া জোটের একাধিক নেতা। কমিশনের ভূমিকা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে মামলা করেন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেনও।
শুনানিতে কী বললেন মেনকা গুরুস্বামী?
আদালতে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী অভিযোগ করেন, নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত ফর্ম ৬-এ কারচুপির বিষয়টিও এই মামলার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্ট ওই ধরনের পরিবর্তনের অনুমতি দিয়েছে বলে দাবি করে নির্বাচন কমিশন একটি প্রেস নোট প্রকাশ করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি জানান, আদালত বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।
এরপর নির্বাচন কমিশনকে নোটিস পাঠানোর আবেদন জানান মেনকা। তাঁর যুক্তি ছিল, কমিশনের জমা দেওয়া হলফনামাতেই আবেদনকারীদের অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু বিষয় উঠে এসেছে। যদিও কমিশনের হয়ে সওয়াল করা আইনজীবী মনিন্দর সিং এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের মন্তব্যের পিছনে অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে।
আবেদনকারীদের তরফে আইনজীবী বিকাশ সিং এক সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত আদালত দু’সপ্তাহ সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একই বিষয়ে দায়ের হওয়া অন্যান্য মামলাতেও নির্বাচন কমিশনকে একই পাল্টা হলফনামা জমা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে বেঞ্চ। প্রয়োজনে অতিরিক্ত হলফনামাও জমা দিতে পারবে কমিশন।
কী দাবি নির্বাচন কমিশনের?
সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা SIR নিয়ে ২০২৫ সালের জুন ও অক্টোবর এবং ২০২৬ সালের মে মাসে যে তিনটি নির্দেশ জারি করা হয়েছিল, সেগুলি কমিশনের সব সদস্যের সম্মতিতেই নেওয়া হয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, এই অভিযোগও খারিজ করেছে কমিশন।
নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার ফর্ম ৬-এ কোনও পরিবর্তন করা হয়েছে, এমন অভিযোগও মানতে চায়নি কমিশন। তাদের বক্তব্য, SIR সংক্রান্ত তিনটি নির্দেশের মাধ্যমে এই ফর্মে কোনও বদল আনা হয়নি।
অন্যদিকে, নির্বাচনী তালিকার ERONET ডেটাবেসের কেন্দ্রীকরণ, ভোটার নথিভুক্তির নিয়ম এবং SIR প্রক্রিয়ায় ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মামলাকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক কাজকর্ম এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতিতে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়?
এই বিতর্কের মধ্যে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ২৩ সেপ্টেম্বরের একটি প্রতিবেদনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী এমন কিছু সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন, যেগুলি তাঁদের অজ্ঞাতসারে জারি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। যদিও নির্বাচন কমিশনের দাবি, SIR সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতিক্রমেই নেওয়া হয়েছে। ফলে কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে ওঠা অভিযোগ এবং তার পাল্টা বক্তব্য—দুইয়ের দিকেই এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানিতে।


