কলকাতা: এক ঝলক দেখা, আর তাতেই শিল্পীর মনে গেঁথে গেল এক মুখের ছবি! আর সেই মুখের আদলেই তৈরি হল মা লক্ষ্মীর প্রতিমা। কিন্তু কে সেই নারী? আজও ভবানীপুরের চট্টোপাধ্যায় বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় (Lokkhi Pujo) ধরা পড়ে সেই চেনা মুখের ছাপ। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি এই পুজো যেন আজও মহানায়ক ও তাঁর ভালোবাসার স্মৃতি বয়ে নিয়ে চলেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।
শোনা যায়, ‘যদুভট্ট’ ছবির শুটিংয়ের সময় প্রতিমা তৈরির কাজ দেখেছিলেন উত্তমকুমার (Mahanayak Uttam Kumar)। শিল্পী নিরঞ্জন পালকে নিজের বাড়িতে লক্ষ্মীপ্রতিমা গড়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান তিনি। সেই সূত্রেই শিল্পীর আসা মহানায়কের ভবানীপুরের বাড়িতে। সেখানে এসে মহানায়কের স্ত্রী গৌরীদেবীকে দেখতে পান তিনি। ঘোমটার ফাঁক দিয়ে এক ঝলক তাকিয়ে তাঁকে বসতে বলে উত্তমকুমারকে ডেকে দেন গৌরীদেবী। আর সেই মুহূর্তেই শিল্পীর মনে গেঁথে যায় তাঁর মুখের আদল। পরে সেই অবয়বকে সামনে রেখেই তৈরি হয় মা লক্ষ্মীর (Lokkhi Pujo) প্রতিমা। সেই থেকে প্রতিমার মুখের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গৌরীদেবীর স্মৃতি।
তবে এই বাড়ির লক্ষ্মীপুজোর (Lokkhi Pujo) আকর্ষণ শুধু প্রতিমার মুখে সীমাবদ্ধ নয়। পুজোর প্রতিটি নিয়মে মিশে রয়েছে পুরনো দিনের পারিবারিক ঐতিহ্য। পুজোর দিন ভোরে গঙ্গা থেকে জল এনে ঘট প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিমার সামনে রাখা হয় বড় রুপোর ঘট। একসময় গৌরীদেবী নিজের গয়না দিয়ে মাকে সাজাতেন। ভোগ তৈরির দায়িত্বও পরিবারের দীক্ষিত সদস্যদের হাতে থাকে।
পোলাও, লুচি, ছোলার ডাল, পাঁচ রকম ভাজা, নানা পদ এবং পায়েসে সাজে ভোগের থালা। অতীতে বাড়িতেই তৈরি হত পান্তুয়া ও গজা। পুজোর পরে অতিথিদের খাওয়ানোর ব্যবস্থাও করতেন উত্তমকুমার (Mahanayak Uttam Kumar) নিজে। সেই আয়োজনের স্মৃতি আজও পরিবারের কাছে অমূল্য।
বর্তমানে এই পুজোর দায়িত্ব সামলাতে ব্যস্ত মহানায়কের নাতবউ দেবলীনা কুমার। বাপেরবাড়ি, শ্বশুরবাড়ি এবং নিজের নাচের স্কুলের পুজো, সব দিক সামলেও ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করেন তিনি। পরিবারের নতুন প্রজন্মের হাত ধরে হয়তো বদলেছে আয়োজনের ধরন, কিন্তু নিষ্ঠা আর আবেগে খামতি নেই।
মহানায়ক আজ নেই, গৌরীদেবীও অতীতের মানুষ। তবু লক্ষ্মীর মুখে যেন আজও বেঁচে রয়েছে তাঁদের গল্প। আর সেই স্মৃতিকে আগলে রেখেই দেবলীনার হাতে এগিয়ে চলেছে চট্টোপাধ্যায় পরিবারের প্রজন্মান্তরের ঐতিহ্য।


