কলকাতা: ‘বামেদের স্টলে (CPM Bookstall) স্বামী বিবেকানন্দের বই নেই!’ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এমন মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই যাদবপুরের মার্ক্সীয় সাহিত্যের স্টলে দেখা গেল স্বামীজিকে নিয়ে একাধিক বই। তাহলে কি মার্ক্স-লেনিনের বইয়ের তাকেই জায়গা করে নিচ্ছেন বিবেকানন্দ? নাকি এই বই বরাবরই ছিল বামেদের বুকস্টলে? পাল্টা জবাবে কী বলছেন বাম নেতারা?
মার্ক্স-লেনিনের তত্ত্ব, ধর্ম নিয়ে বিতর্ক, আর তারই মাঝে স্বামী বিবেকানন্দের বই! দুর্গাপুজোর বুকস্টল (CPM Bookstall) ঘিরে রাজনৈতিক তরজায় এবার নতুন মাত্রা যোগ করেছে যাদবপুরের এই ছবি। শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের পর বামেদের বুকস্টলে স্বামীজির বইয়ের উপস্থিতি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই উঠছে প্রশ্ন। তবে বাম নেতাদের দাবি, এই বই নতুন করে রাখা হয়নি, বরং আগেও তাঁদের স্টলে স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে বই বিক্রি হয়েছে।
কলকাতা জেলা কমিটির সদস্য সুদীপ সেনগুপ্তের বক্তব্য, বামেদের বুকস্টল (CPM Bookstall) মানেই শুধু মার্ক্স, এঙ্গেলস, লেনিন কিংবা স্টালিনের বই, এমন ধারণা ঠিক নয়। বিভিন্ন প্রকাশকের নানা ধরনের বই সেখানে থাকে। তাঁর কথায়, স্বামী বিবেকানন্দের ভাই ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের লেখা বইও রয়েছে। পাশাপাশি নিমাই ভট্টাচার্যের ‘বিপ্লবী স্বামী বিবেকানন্দ’ এবং স্বামীজির শিকাগো বক্তৃতামালাও বিক্রি হয়।
সুদীপের কটাক্ষ, অন্য রাজনৈতিক মতাদর্শ সম্পর্কে না জেনেই মন্তব্য করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, আগে থেকেই বামেদের বুকস্টলে স্বামীজিকে নিয়ে বই বিক্রি হয়েছে। তাই শুভেন্দুর মন্তব্যের পরেই বইগুলি রাখা হয়েছে, এমনটা বলা ঠিক হবে না।
তবে শুধু বিবেকানন্দ নয়, বুকস্টলে রয়েছে মনুসংহিতা নিয়ে বইও। কেন? সুদীপের ব্যাখ্যা, মনুসংহিতায় নারী ও শূদ্রদের সম্পর্কে কী বলা হয়েছে, তা মানুষের জানা উচিত। তাঁর মতে, স্বামী বিবেকানন্দের বক্তব্যও বর্তমান হিন্দুত্বের প্রচারের সঙ্গে তুলনা করে পড়া যেতে পারে।
এদিকে বুকস্টলের (CPM Bookstall) নাম নিয়েও রয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় ‘দুর্গাপুজো’র বদলে ‘শারদোৎসব’ লেখা হলে বামেদের বুকস্টল করতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ। পাল্টা সিপিএম জানিয়েছিল, স্টল হবেই, প্রয়োজনে বাড়বে সংখ্যাও। যাদবপুরের আয়োজকদের দাবি, তাঁদের স্টলে কোনও দিনই ‘শারদীয়া’ লেখা থাকে না; লেখা থাকে ‘মার্ক্সীয় ও প্রগতিশীল পুস্তক বিক্রয় কেন্দ্র’।
বনগাঁ, নৈহাটি ও যশোর এলাকায় বুকস্টল বসানো নিয়ে বাধার অভিযোগ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের মন্তব্য, “বেলুন-বন্দুকের স্টল বসতে পারলে বইয়ের স্টল বসবে না কেন?” এই পর্যবেক্ষণও বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তৃতীয়ায় বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু যাদবপুরের স্টল (CPM Bookstall) উদ্বোধন করেন। আয়োজকদের দাবি, প্রথম দিনেই ৩০ হাজার টাকার বেশি বই বিক্রি হয়েছে। আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে স্টল।
রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেও বইয়ের বিক্রি, এটাই কি যাদবপুরের বুকস্টলের (CPM Bookstall) আসল চমক? মার্ক্স-লেনিনের পাশে বিবেকানন্দ, আবার মনুসংহিতা নিয়েও আলোচনা, বামেদের বক্তব্য, তাঁদের বইয়ের তাককে একমাত্রিকভাবে দেখলে ছবির অনেকটাই অজানা থেকে যায়।


