Aaj India Desk, কলকাতা : হলদিয়ায় ৬ হাজার কোটি টাকার ফেনল ও অ্যাসিটোন কারখানার উদ্বোধন করে রাজ্যে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং আত্মনির্ভরতার উপর জোর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার এই কারখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, নতুন শিল্পপ্রকল্পের হাত ধরে বিদেশ থেকে রাসায়নিক আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে। পাশাপাশি, রাজ্যে আরও বিনিয়োগ, স্থানীয় যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের চিকিৎসা পরিকাঠামো উন্নয়নের একাধিক পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
হলদিয়ায় তৈরি এই ফেনল ও অ্যাসিটোন কারখানাটি দেশের বৃহত্তম। হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সংস্থা অ্যাডপারমা প্রাইভেট লিমিটেড এই প্রকল্প গড়ে তুলেছে। কারখানার উদ্বোধনের পর শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, হলদিয়ায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। আরও ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাবিত রয়েছে।
কারখানাকে কেন্দ্র করে কর্মসংস্থানের বিষয়টিও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পে প্রায় ৪০০ জনের সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে। পরোক্ষভাবে কাজ পেয়েছেন আরও প্রায় ১,০০০ জন।একই সঙ্গে স্থানীয় যুবকদের শিল্পক্ষেত্রে কাজের উপযোগী করে তুলতে দক্ষতা উন্নয়নের উপর জোর দেন তিনি। শুধু আর্থিক সহায়তার উপর নির্ভর না করে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে স্বনির্ভর হওয়ার বার্তাও দেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “ভাতার উপর নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আত্মনির্ভর হতে হবে। আজ আমাদের এই শপথ নিতে হবে।”
হলদিয়ায় আগামী দিনে আরও শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, ৫০ একর জমিতে চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরির কারখানা গড়বে প্রোভিস কোম্পানি। পাশাপাশি, আইডব্লিউএল এবং আইওসিএল-এর কারখানা তৈরির কাজও চলছে বলে জানান তিনি। রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ টানতে শিল্পনীতি তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। পুজোর পর হরিণঘাটায় ক্যাম্পা কোলা প্রকল্পের শিলান্যাস করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। দীপাবলির আগেই নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে আশাপ্রকাশ করেন শুভেন্দু।
হলদিয়ার নতুন কারখানার উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে রাজ্যে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তুলে ধরেছে সরকার। তবে এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রে কতটা পরিবর্তন আসে এবং স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানে তার প্রভাব কতটা পড়ে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।


