Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: পুলিশের হেফাজত থেকে বেরিয়েও প্রতিবাদের পথ থেকে সরতে নারাজ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে (Abhijeet Dipke)। প্রায় ২৪ ঘণ্টা আটক থাকার পর মুক্তি পেয়ে তাঁর বার্তা, আন্দোলন থামানোর কোনও প্রতিশ্রুতি তিনি দেননি। আগামী দিনেও পথে নেমে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, রবিবার দিল্লিতে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের অভিযানে ১০০-রও বেশি ছাত্রকে আটক করা হয়েছে।
প্রতিবাদ থামানোর প্রতিশ্রুতি দেননি CJP প্রধান
মুক্তির পর এক্সে (X) নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন অভিজিৎ। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে কোনও আন্দোলন বা বিক্ষোভে যোগ দেবেন না, এমন কোনও বন্ডে তাঁকে সই করতে হয়নি। CJP-র অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানান, তাঁদের সংগঠন ভয় পেয়ে পিছিয়ে যাবে না। ১০ অক্টোবরকে তিনি বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতনের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে তাঁর এই রাজনৈতিক মন্তব্যের বিষয়ে প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
শনিবার অভিজিতের ঠাকুমার মৃত্যু হয়। তাঁর শেষকৃত্যে যোগ দিতে মহারাষ্ট্রের নিজের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তিনি। এদিকে, দলের দুই যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।
যন্তর মন্তরের পথে বাধা, আটক ছাত্ররা
রবিবার ‘ফ্ল্যাশ প্রটেস্ট’-এর কর্মসূচি নিয়ে পথে নামে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA), স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (SFI)-সহ একাধিক বামপন্থী ছাত্র সংগঠন। রাজীব চক মেট্রো স্টেশন থেকে যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ, উত্তরপ্রদেশ পুলিশের মহিলা ব্যাটালিয়ন ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)। এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
SFI নেতাকে মারধরের অভিযোগ
SFI-এর সর্বভারতীয় সভাপতি আদর্শ এম সাজি (Adarsh M Saji) এবং দিল্লির সম্পাদক সূরজ এলামন-সহ একাধিক ছাত্রকর্মীকে মারধর করে আটক করার অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনের প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় দাবি করা হয়, প্রিজন ভ্যানের ভিতরেও আন্দোলনকারীদের মারধর করা হয়েছে। আদর্শের কপাল ফেটে রক্তপাত হয় এবং ১০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী জ্ঞান হারান বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আটক ছাত্রের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। এই অভিযোগগুলির বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জানা গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।


