Aaj India Desk, নয়া দিল্লি: ভারতের আসল ক্ষমতা কার হাতে? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর, নাকি শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির? ভারতের বাজারে ব্যবসা করার অনুমতি না পাওয়ার বিতর্কের মাঝেই এই প্রশ্ন তুলে সরাসরি আম্বানিকে নিশানা করলেন বিশ্বের ধনীতম ব্যবসায়ীদের অন্যতম ইলন মাস্ক (Elon Musk)। সমাজমাধ্যমে তাঁর কটাক্ষ, ‘দুঃখিত, বুঝতে পারিনি যে আপনিই ভারতের আসল বস!’ মাস্কের এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চায় স্টারলিঙ্কের ভারতে প্রবেশ, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবার লাইসেন্স এবং দেশের টেলিকম বাজারে প্রতিযোগিতার প্রশ্ন।
ঠিক কী লিখেছেন ইলন মাস্ক?
সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে মুকেশ আম্বানিকে উদ্দেশ্য করে ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন মাস্ক (Elon Musk)। তাঁর পোস্টের মূল বক্তব্য, ভারতে স্টারলিঙ্ককে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়া উচিত। আম্বানিকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, ভারতের ‘আসল বস’ কে, তা বুঝতে না পারার জন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। তিনি লেখেন, “ প্রিয় প্রধান মন্ত্রী আম্বানি, ভারতের আসল বস যে আপনিই, তা বুঝতে না পারার জন্য আমার বিনীত ক্ষমাপ্রার্থনা গ্রহণ করুন।” এমন ব্যাঙ্গের পরেই ভারতের বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখার প্রসঙ্গ তুলে আম্বানিকে কটাক্ষ করেন তিনি। স্টারলিঙ্ককে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়া হবে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন।
কেন এমন আক্রমণ মাস্কের?
স্টারলিঙ্কের ভারতে ব্যবসা শুরু করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। মাস্কের (Elon Musk) সংস্থা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট পরিষেবা দিতে চায়। কিন্তু এই পরিষেবা চালু করতে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রক ছাড়পত্রের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। মাস্কের অভিযোগ, ভারতে স্টারলিঙ্কের ব্যবসার পথে বাধা তৈরি হচ্ছে। তাঁর দাবি, আম্বানি-আদানির মতো প্রভাবশালী ধনকুবেরের স্বার্থের কারণে প্রতিযোগিতার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে। ভারতের টেলিকম ও ইন্টারনেট বাজারে রিলায়েন্সের গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই আম্বানিকে উদ্দেশ্য করে বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখার অভিযোগ তোলেন মাস্ক। তাঁর বক্তব্য, স্টারলিঙ্ককে প্রতিযোগিতার সুযোগ দিলে গ্রাহকেরা বিকল্প পরিষেবা পেতে পারেন।
স্টারলিঙ্কের লাইসেন্স সংক্রান্ত সরকারি অবস্থান, রিলায়েন্সের প্রতিক্রিয়া এবং মাস্কের অভিযোগের পক্ষে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর। আপাতত তাঁর পোস্টকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হলেও, ভারতে স্টারলিঙ্কের পরিষেবা চালুর ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার উপর।


