Aaj India Desk, কলকাতা: ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন (By-Election)। তার আগে ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানালেন অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury)। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের হাতে থাকা বিধায়ক ও সাংসদদের সঙ্গে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসে যোগ দিন এবং বাংলায় দলের নেতৃত্ব দিন।
অধীরের দাবি, তৃণমূলের ‘বাগেজ’ বা বিতর্কিত বিষয়গুলি সরিয়ে রেখে দলের বাকি নেতা-নেত্রী, বিধায়ক ও সাংসদদের নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হওয়া উচিত মমতার। তিনি বলেন, লোকসভা বা রাজ্যসভা—তৃণমূলের যে সাংসদরা এখনও রয়েছেন, তাঁদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কংগ্রেসে আসা উচিত।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে অধীর বলেন, কংগ্রেস একটি ‘বটগাছ’-এর মতো। তাঁর বক্তব্য, মমতা যেহেতু কংগ্রেসের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে যুক্ত পরিসরে রয়েছেন, তাই তাঁর দলের বেঁচে থাকা বিধায়ক ও সাংসদদের সঙ্গে নিয়ে কংগ্রেসে চলে আসা উচিত। তবে তাঁর নিজের দলের যে ‘ঝঞ্ঝাট’ বা ‘বাগেজ’ রয়েছে, তা বাদ দেওয়ার কথাও বলেন অধীর।
এখানেই থামেননি প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, সোনিয়া গান্ধীর মানসিকতা এবং রাহুল গান্ধীর উদারতার কারণে অতীতেও কংগ্রেস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছে। প্রয়াত রাজীব গান্ধীর সময় থেকে সেই সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে অধীরের দাবি, এবার মমতার উচিত তৃণমূলের সবকিছু নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে যোগ দেওয়া।
অধীরের এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের স্বার্থকে সামনে রেখেই রাজনীতি করেন এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে। কুণালের দাবি, সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী যখন নিজেরাই মমতার সঙ্গে কথা বলছেন, তখন অন্য কারও এই ধরনের মন্তব্যের পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
এদিকে, এবারের উপনির্বাচন ঘিরে বাংলার রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে আরও একটি নজিরবিহীন পরিস্থিতি। গত ২৮ বছরে এই প্রথম ‘জোড়াফুল’ প্রতীক এবং ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ছাড়াই উপনির্বাচনে লড়তে হচ্ছে তৃণমূলকে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে দলের মূল নাম ও প্রতীক আপাতত ‘ফ্রিজ’ রয়েছে।
এর পরিবর্তে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম দেওয়া হয়েছে ‘কালীঘাট তৃণমূল’। পাশাপাশি উপনির্বাচনে দলকে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক ব্যবহার করতে হচ্ছে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পর নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। পরে নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথাও জানায় তৃণমূল।


