কলকাতা: ভোটের পর শনিবারই প্রথম কলকাতার বাইরে জেলায় জনসভা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শ্রীরামপুরের সেই সভাকে ঘিরে এবার সরাসরি আক্রমণে শুভেন্দু অধিকারী। সভার ভিড় থেকে শুরু করে SIR ইস্যু, এমনকি তৃণমূলের রাজনৈতিক অবস্থান, একাধিক প্রসঙ্গ তুলে ধরে মমতাকে নিশানা করলেন তিনি।
শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) দাবি, শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানের সভায় সর্বসাকুল্যে প্রায় ৫০০ জনের মতো মানুষ ছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই ভিড়ের বড় অংশই ছিল পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের কর্মী। এমনকি আরও নির্দিষ্ট করে তিনি দাবি করেন, “১৫০ জন লোক ছিল, ১৭০ পুলিশ ছিল।” এই মন্তব্য ঘিরেই ইতিমধ্যে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন তরজা।
তবে শুধু সভার ভিড় নয়, SIR ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) অবস্থান নিয়েও তীব্র আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, SIR নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে সামনে রেখে সিপিএম এবং তৃণমূল একই সুরে কথা বলছে।
শুভেন্দুর কথায়, যে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করেই একসময় তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল, সেই সিপিএমের সঙ্গেই এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ‘হাত মেলানো’ দেখা যাচ্ছে। গত কয়েকদিনের সাংবাদিক সম্মেলন এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারের পাশাপাশি শ্রীরামপুর ও রেজিনগরের বক্তব্যেও একই ধরনের সুর শোনা যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এখানেই থামেননি শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। মমতার সভায় ‘আজাদি’ স্লোগান এবং SIR নিয়ে তাঁর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনেও পাল্টা আক্রমণ করেন তিনি। সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিমের বক্তব্যের সঙ্গেও মমতার বক্তব্যের মিল রয়েছে বলে দাবি করেন বিরোধী দলনেতা।
তৃণমূলের ‘কঠিন সময়’ নিয়েও খোঁচা
তৃণমূলের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, দলের নাম, প্রতীক এবং সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে পরিবর্তনের জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, “নাম বদলেছে, ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীকও বদলেছে এবং দলও একাধিক ভাগে বিভক্ত হয়েছে।” এর ফলে তৃণমূলের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
SIR নিয়ে পাল্টা অভিযোগ
SIR ইস্যুতে বিরোধীদের প্রচার নিয়েও সরব হন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, মানুষের দেওয়া নির্বাচনী ম্যান্ডেটকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি আবাস যোজনা, সামাজিক সুরক্ষা, নিয়োগ, কয়লা-বালি, গবাদি পশু পাচার-সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, এই সমস্ত বিষয় থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই SIR নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।
অর্থাৎ, শ্রীরামপুরের সভা শেষ হলেও তার রেশ কাটেনি। ১৫০ লোক বনাম ১৭০ পুলিশ! এই একটি মন্তব্যই এখন নতুন করে রাজনৈতিক তরজার কেন্দ্রবিন্দু। তার সঙ্গে মমতা–সিপিএমের কথিত ‘ঘনিষ্ঠতা’ এবং SIR বিতর্ক যোগ হওয়ায় বাংলার রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়ল।


