Aaj India Desk, পাটনা: বিহারের (Bihar) জামুইয়ে দশম শ্রেণির দুই পড়ুয়াকে প্রকাশ্য রাস্তায় হেনস্থা ও নাবালিকা ছাত্রীর শ্লীলতাহানির (Molestation of a Minor) ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল (Viral Video) হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনায় নতুন মোড়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়েছে মূল অভিযুক্ত নন্দন যাদব।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে নন্দনকে ধরতে যায় পুলিশের বিশেষ দল। অভিযোগ, পুলিশের হাত থেকে পালানোর চেষ্টা করে নন্দন গুলি চালায়। আত্মরক্ষায় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। সেই সময় নন্দনের পায়ে গুলি লাগে। আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পাঁচ জন প্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রশাসনের দাবি, ঘটনায় আরও দু’জন জড়িত, যারা নাবালক। পুরো ঘটনার তদন্তে নেমেছে সিট। বাকি অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে, তাতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক দুই পড়ুয়ার সঙ্গে রাস্তায় দুর্ব্যবহার করছে। এক যুবক নাবালক ছাত্রটির জামার কলার ধরে টানাহেঁচড়া করছে। অন্য এক অভিযুক্ত নাবালিকা ছাত্রীর গলা ধরে তাকে হেনস্থা করছে। ধস্তাধস্তির মধ্যেই ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করা হয়।
পড়ুয়া দু’জন বারবার তাদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে। পরে তারা স্কুটারে করে সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করলেও অভিযুক্তরা তাদের পিছু নেয় এবং টেনে নামিয়ে দেয়। ভিডিওতে নাবালিকা ছাত্রীকে বলতে শোনা যায়, তারা আর কোনও দিন ওই এলাকায় আসবে না। এরপরই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিহারে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কোনওভাবেই এমন আচরণকে স্বাভাবিক বা সংস্কৃতির অংশ হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না।
অন্যদিকে, বিহার সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। ঘটনার বিষয়ে বিহার রাজ্য মহিলা কমিশনও স্বরাষ্ট্র দফতরের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে। ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।


