Aaj India Desk, কলকাতা: রেজিনগর উপনির্বাচনে (Rejinagar By-Election) ফের সামনে এল প্রতীক নিয়ে জটিলতা। নির্বাচন কমিশন (ECI) কোদাল-বেলচা প্রতীক না দেওয়ায় ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল আরএসপি (RSP)। কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে দল।
রেজিনগর উপনির্বাচনে আরএসপির প্রার্থী ছিলেন বিকাশ মিশ্র। তাঁর হয়ে এলাকায় দেওয়াল লিখন এবং প্রচারের কাজও শুরু হয়ে গিয়েছিল। একই আসনে প্রার্থী দিয়েছে সিপিএমও। কিন্তু সোমবার কমিশনের তরফে আরএসপি নেতৃত্বকে জানানো হয়, রেজিনগর উপনির্বাচনে তাদের কোদাল-বেলচা প্রতীক ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এরপরই মঙ্গলবার রাজ্য কমিটির বৈঠক ডাকে আরএসপি। সেই বৈঠকেই ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দলের বিবৃতিতে কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলা হয়েছে। আরএসপির দাবি, নিয়মের কথা উল্লেখ করেই কোদাল-বেলচা প্রতীক দিতে অস্বীকার করেছে কমিশন। এমনকি স্ক্রুটিনির সময়ও প্রতীক সংক্রান্ত সমস্যার কথা তাদের জানানো হয়নি বলে অভিযোগ দলের।
রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম—দুই উপনির্বাচনেই কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আরএসপি। তাদের অভিযোগ, বিরোধীদের প্রতীক বণ্টনের ক্ষেত্রেই কমিশনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। আরএসপির আরও অভিযোগ, নির্দিষ্ট একটি দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে জটিল করা হচ্ছে।
এর মধ্যেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক নিয়েও তৈরি হয়েছিল জটিলতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের মধ্যে প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েনের পর জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ করে কমিশন। এরপর মমতা শিবিরকে ফুটবল খেলোয়াড় এবং ঋতব্রত শিবিরকে খাম প্রতীক দেওয়া হয়।
কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানায় নওশাদ সিদ্দিকির দল আইএসএফ। তাদের প্রশ্ন, অতীতে যে খাম প্রতীক নিয়ে আইএসএফ নির্বাচনে লড়েছে, সেটিই কীভাবে ঋতব্রত শিবিরের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে দেওয়া হল? এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি।
একদিকে তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে আইনি জটিলতা, অন্যদিকে এবার আরএসপির কোদাল-বেলচা প্রতীক না পাওয়া—সব মিলিয়ে দুই উপনির্বাচনকে ঘিরে প্রতীক বিতর্ক আরও বাড়ল। আর সেই বিতর্কের মধ্যেই রেজিনগরের ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়াল আরএসপি।


