Aaj India Desk, কলকাতা : দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে আইএসএফের কার্যকরী সভাপতি সামসুর আলি মল্লিককে (Samsur Ali Mallick) শোকজ করেছেন দলের বিধায়ক তথা নেতা নওশাদ সিদ্দিকি। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে তাঁকে। তবে তার আগেই প্রকাশ্যে মুখ খুলে দলের সাংগঠনিক কাঠামো, রাজনৈতিক দর্শন, কর্মসূচি ও নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন সামসুর।
সামসুরের বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দল নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তাঁর মর্জিতে চলতে পারে না। দলের স্পষ্ট গঠনতন্ত্র, রাজনৈতিক দর্শন, কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কাঠামো থাকা প্রয়োজন। নওশাদকে নিজের নেতা বলে উল্লেখ করেও তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা ব্যর্থ হয়েছি নওশাদ সিদ্দিকিকে তৈরি করতে। এটা আমাদের ব্যর্থতা।’’ তিন বছর আগে গঠনতন্ত্র ও রাজনৈতিক কর্মসূচি তৈরির কথা বলা হলেও এখনও তা স্পষ্ট নয় বলে অভিযোগ করেছেন সামসুর (Samsur Ali Mallick)। কর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করে তাঁর মন্তব্য, ‘‘অন্ধ ভক্তি দিয়ে কোনও কাজ হয় না।’’
২০ সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত আইএসএফ কনভেনশন নিয়েও দলের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আত্মসমালোচনার সুর শোনা গিয়েছে তাঁর বক্তব্যে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় দলের যে রাজনৈতিক শক্তি ছিল, বর্তমানে তা অনেকটাই কমেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না হওয়ার জন্য তাঁকে দায়ী করার অভিযোগও খারিজ করেছেন সামসুর (Samsur Ali Mallick)। তাঁর দাবি, তিনি বরাবরই বাম ও কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার পক্ষে ছিলেন। ‘‘আমার জন্য জোট হয়নি, এটা সর্বৈব মিথ্যা কথা,’’ দাবি তাঁর।
পাশাপাশি সংবিধান রক্ষার প্রশ্নে বৃহত্তর বিরোধী ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন সামসুর। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই প্রশ্নে অবস্থান নিলে তাঁর সঙ্গে থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। ১৮ সেপ্টেম্বর শোকজের জবাব প্রকাশ্যেই দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সামসুর। ফলে তাঁর জবাবের পর নওশাদ সিদ্দিকি ও আইএসএফ নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


