Aaj India Desk, কলকাতা: সরকারি পরিষেবাকে মানুষের আরও কাছে নিয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে বড়সড় উদ্যোগ নিল নবান্ন। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চলবে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’। এই কর্মসূচিতে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, পুরসভা এবং ব্লক প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই অভিযানের মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা, যোগ্য ব্যক্তিদের পরিষেবার আওতায় আনা এবং নাগরিকদের সামাজিক কাজে যুক্ত করাই মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর ভাবনাকেও সামনে রাখা হয়েছে।
অভিযানের প্রথম দিন ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় আয়োজন করা হবে ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’। সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রদীপ জ্বালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় ৫০ হাজার প্রদীপ সংগ্রহের উদ্যোগ নিতে পারবে স্থানীয় প্রশাসন। ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতেও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে প্রদীপ প্রজ্বলন করা হবে।
পড়ুয়াদেরও এই উদ্যোগে সামিল করা হচ্ছে। ১৭ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ‘আমার স্বপ্নের ভারত চিত্র সেবা’ পর্বে বক্তৃতা, ছবি আঁকা, প্রবন্ধ লেখা এবং প্রদর্শনীর আয়োজন থাকবে। স্কুল ও উচ্চশিক্ষা দফতরের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সময়ে ‘নমো সেবা অজানা কাহিনি’-তে গান ও নাটকের মাধ্যমে জনসেবা এবং জনকল্যাণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে।
এর আগে ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে হবে ‘অন্ন মিলন সেবা’। পুষ্টি, স্বাস্থ্য এবং মহিলা-কেন্দ্রিক সরকারি প্রকল্পে অংশগ্রহণ বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর ‘সেবার কাহিনি’ কর্মসূচিতে সরকারি সুবিধা পাওয়া মানুষের অভিজ্ঞতা ভিডিও, রিল, ছবি ও লেখার মাধ্যমে তুলে ধরবে জেলা প্রশাসন। ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর ‘সেবায় আমার যোগদান’-এ বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষামূলক কাজে সাধারণ মানুষকে যুক্ত করা হবে। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা উপভোক্তাদের শিবিরেই নথিভুক্ত করার ব্যবস্থাও থাকবে।
৬ অক্টোবর হবে ‘সেবার রঙে, দেশের সঙ্গে’, ৭ অক্টোবর ‘সেবা জ্যোতি কলস যাত্রা’ এবং ৯ অক্টোবর ‘সেবা ফার্স্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’। শেষ পর্যায়ে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা, শিল্প-বাণিজ্য, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং ক্রীড়াক্ষেত্রের নতুন ভাবনা ও উদ্ভাবন তুলে ধরা হবে। এই উদ্যোগের অন্যতম আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে কলকাতাকে প্রস্তাব করা হয়েছে।


