Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেসের জোড়াফুল প্রতীক (TMC Party Symbol) শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে? এই প্রশ্ন ঘিরে শনিবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হয়ে গেল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ( Mamata Banerjee) শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) শিবির—দুই পক্ষের সঙ্গেই আলাদা করে কথা বলে কমিশন।
শুনানি শেষে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সেখানেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। কল্যাণের অভিযোগ, ঋতব্রত বিজেপির হয়ে কাজ করছেন। কমিশনের বৈঠক নিয়ে কল্যাণ জানান, কমিশন আপাতত একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে পারে। সেই নির্দেশের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাঁর দাবি, শনিবারের বৈঠকে তৃণমূলের কাছে নতুন কোনও নথি চাওয়া হয়নি। ঋতব্রত শিবিরের তরফ থেকেও নতুন কোনও নথি জমা দেওয়া হয়নি। নিজেদের বক্তব্য কমিশনের সামনে তুলে ধরেছেন তাঁরা। এর মধ্যেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, উপনির্বাচনের আগে হয়তো জোড়াফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করে দিতে পারে কমিশন। সেক্ষেত্রে দুই পক্ষকেই সাময়িকভাবে আলাদা নাম ও প্রতীক দেওয়া হতে পারে।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে কল্যাণ বলেন, “ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলকে সম্পত্তি মনে করে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বেচে দিয়েছেন। বিজেপির দালাল হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।” এরপরই তিনি ঋতব্রতের বিরুদ্ধে ওঠা একটি ধর্ষণ মামলার প্রসঙ্গ তুলে তাঁর বক্তব্যের গুরুত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
কল্যাণ আরও বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিই জোড়াফুল এঁকেছিলেন এবং সেখান থেকেই দলের প্রতীক তৈরি হয়। তাঁর দাবি, বর্তমানে যাঁরা বিদ্রোহ করেছেন, তাঁরাও কয়েক মাস আগে মমতার তৈরি সেই প্রতীকেই ভোটে জিতেছেন। তাই তাঁদের দাবিকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
অন্যদিকে, কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও মমতা শিবিরের বিরুদ্ধে সরব হন। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেস কোনও পরিবার বা কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি দলের নিচুতলার কর্মীদের দল। তাঁর কথায়, “মমতা যা বলবেন তাই সই—এসব চলবে না।” ঋতব্রত আরও বলেন, রাজনীতিতে ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা খামখেয়ালিপনার বদলে সংবিধান ও আইনি তথ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁর দাবি, বাংলায় স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তের রাজনীতি আর চলতে পারে না।
দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যেই জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আসলে কোন পক্ষ আইনত তৃণমূল কংগ্রেসের দাবিদার এবং জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার কার—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই কমিশনের এই শুনানি।
সবচেয়ে বড় বিষয়, সামনে রয়েছে উপনির্বাচন। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। তার আগে কমিশন জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয় কি না, নাকি প্রতীক ফ্রিজ করে দুই পক্ষকে অস্থায়ী নাম ও প্রতীক দেওয়া হয়—এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


