Aaj India Desk, কলকাতা: গণেশ পুজোর মঞ্চ, আর সেখান থেকেই বাংলার রাজনীতির অতীত নিয়ে বিস্ফোরক আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র। কেষ্টপুরের পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে তাঁর নিশানায় ৩৪ বছরের বাম শাসন। শুভেন্দুর অভিযোগ, দীর্ঘ ওই সময়ে বাংলার সনাতন ধর্মীয় পরম্পরা ও পুজো-পার্বণকে সাধারণ মানুষের জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটা চেষ্টা চলেছিল।
বাম আমলের পুজোর বইয়ের স্টলের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, লাল শালুর সেই স্টলে কার্ল মার্ক্স কিংবা লেনিনের লেখা পাওয়া গেলেও স্বামী বিবেকানন্দ, লোকানন্দজি বা ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রণব প্রকাশনের বই খুঁজে পাওয়া যেত না। এমনকি পশ্চিমবঙ্গ কীভাবে তৈরি হল, ১৯৪৭ সালের সেই রাজনৈতিক ইতিহাস কিংবা দ্বিজাতি তত্ত্ব নিয়েও পর্যাপ্ত আলোচনা থাকত না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শুভেন্দুর বক্তব্যে উঠে আসে পঞ্জিকা, ধর্মীয় শাস্ত্র, পুরোহিত এবং মন্ত্রোচ্চারণের প্রসঙ্গও। তাঁর অভিযোগ, এই ঐতিহ্যগুলিকে মানুষের জীবন থেকে মুছে দেওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়েছিল। দুর্গাপুজো কিংবা মহালয়া শোনার ক্ষেত্রেও একসময় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজয়া দশমীতে মহরমের কারণ দেখিয়ে দুর্গাপ্রতিমা নিরঞ্জন বন্ধ রাখার চেষ্টার প্রসঙ্গ তুলেও আগের সরকারকে আক্রমণ করেন তিনি।
এদিন রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভার বিধায়ক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে নিয়ম মেনে আরতি করে গণেশ পুজোর সূচনা করেন শুভেন্দু। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমীর ব্রহ্মচারী, হিরন্ময়ানন্দ প্রভু, বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারী, পিযূষ কানোড়িয়া ও অরিজিৎ বক্সী।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-র ‘মন কি বাত’-এর প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজারহাট-গোপালপুর তথা বাংলার সুখ, সমৃদ্ধি ও উন্নতির কামনাতেই এই আয়োজন। ১৯৪৭ সালের ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ তৈরির লড়াইয়ে ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ও স্বামী প্রণবানন্দের ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন তিনি।
পুজোর উদ্বোধনের সময় নিয়েও সরব হন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, অতীতে এক প্রাক্তন মন্ত্রীর সৌজন্যে পিতৃপক্ষেই পুজো উদ্বোধনের রীতি দেখা গিয়েছিল। এবার থেকে মহালয়ার দিন দেবীপক্ষের সূচনায় পুজোর উদ্বোধন এবং মহাষ্টমীতে শুচি-পবিত্র হয়ে মায়ের অঞ্জলি দেওয়ার পরম্পরা ফিরিয়ে আনার বার্তা দেন তিনি।
ধর্ম, সংস্কার ও ঐতিহ্য বদলে দেওয়ার কোনও চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না এমনই বার্তা দিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে বাঙালি, হিন্দিভাষী, গুজরাটি কিংবা মাড়োয়ারি পরিচয়ের বিভাজন সরিয়ে দেশের স্বার্থে একসঙ্গে থাকার ডাক দেন তিনি। তরুণজ্যোতি তেওয়ারীর এমএলএ ওয়েবসাইট এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করে রাজ্য সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাসও দেন শুভেন্দু।


