29 C
Kolkata
Friday, September 11, 2026
spot_img

নন্দীগ্রামে মমতাকেই চাইছে ঋতব্রত তৃণমূল! কেন আচমকা বদলে গেল বিদ্রোহীদের সুর?

কলকাতা: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন (Nandigram Bypoll 2026) যত এগিয়ে আসছে, ততই ঘনীভূত হচ্ছে রাজনৈতিক রহস্য। যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) একসময় নন্দীগ্রামে হারিয়ে দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, এবার সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নন্দীগ্রামে প্রার্থী হওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে ঋতব্রত শিবির! শুধু চ্যালেঞ্জ নয়, তাঁদের দাবি, মমতা প্রার্থী হলে তাঁরা নাকি প্রার্থী প্রত্যাহার করে তাঁকেই সমর্থন করবেন।

কেন আচমকা এই ‘সমর্থন’? সত্যিই কি মমতাকে নন্দীগ্রামে জেতাতে চায় ঋতব্রত শিবির? নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও বড় রাজনৈতিক কৌশল? এখন এই প্রশ্নই ঘুরছে বঙ্গ রাজনীতিতে।

মদন মিত্রের চ্যালেঞ্জ, ‘একা লড়ুন মমতা!’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) একদা রাজনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম সঙ্গী মদন মিত্রও নন্দীগ্রামে তাঁকে প্রার্থী হওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন। তাঁর বক্তব্যের সারকথা, মমতা নন্দীগ্রামে একা লড়ুন, সর্বশক্তি দিয়ে লড়ুন এবং প্রমাণ করুন যে তাঁকে ভোটে হারানো হয়েছিল কারচুপির মাধ্যমে। তাঁর প্রশ্ন, শুভেন্দু অধিকারী কি ভোটচুরি করে জিতেছিলেন, নাকি মেশিন বিভ্রাটের কারণে? অর্থাৎ, নন্দীগ্রামকে ঘিরে মমতা বনাম শুভেন্দুর পুরনো লড়াইকে ফের সামনে আনতেই যেন নতুন করে উত্তাপ তৈরি হচ্ছে।

কিন্তু ঋতব্রত শিবিরের আসল অঙ্কটা কোথায়?

এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারণ, মমতাকে নন্দীগ্রামে (Nandigram Bypoll 2026) প্রার্থী হওয়ার আহ্বান জানানোটা শুধুমাত্র তাঁকে সমর্থনের বিষয় নয় বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

ঋতব্রত তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রের দাবি, আসল তৃণমূল কংগ্রেস এবং জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এখনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত উপনির্বাচনের আগে না হলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে নির্দল প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে শিবির সূত্রে খবর।

অন্যদিকে, নন্দীগ্রামে মমতাপন্থী শিবিরের প্রার্থী বাছাই নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর পরাজিত হয়েছেন এবং এবার তিনি আর নন্দীগ্রামে দাঁড়াতে আগ্রহী নন বলে দাবি।

এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সামনে এনে কি তাহলে এক ঢিলে একাধিক পাখি মারতে চাইছে ঋতব্রত শিবির?

কেন মমতাকেই নন্দীগ্রামে চাইছে ঋতব্রত শিবির?

শিবিরের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি মিলিয়ে কয়েকটি সম্ভাব্য অঙ্ক সামনে আসছে:

  • প্রতীকের লড়াই: জোড়াফুল প্রতীক শেষ পর্যন্ত কোন শিবির পাবে, সেই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার আগে নন্দীগ্রামে মমতাকে সামনে রেখে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইছে ঋতব্রত শিবির, এমন জল্পনা রয়েছে।
  • প্রার্থী নিয়ে মমতাপন্থীদের চাপ: নন্দীগ্রামে মমতাপন্থী শিবিরের প্রার্থী খোঁজার সমস্যা থাকলে মমতা নিজেই প্রার্থী হওয়ার দাবি তোলা সেই সমস্যাকে সরাসরি সামনে এনে দিতে পারে।
  • মমতার জনপ্রিয়তাকে ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার? ঋতব্রত শিবিরের তৈরি হওয়ার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) পরামর্শদাতা হিসেবে চাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এবার তাঁকেই নন্দীগ্রামে লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ! এই দুই অবস্থানের মধ্যে রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা দেখছেন অনেকে।
  • নিজেদের প্রার্থীর ঝুঁকি এড়ানো: ঋতব্রত শিবির প্রার্থী দিলে এবং তিনি বড় ব্যবধানে হেরে গেলে সংগঠনের জনভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। মমতাকে প্রার্থী হওয়ার আহ্বান সেই ঝুঁকি এড়ানোর কৌশলও হতে পারে।
  • নন্দীগ্রামের পুরনো আবেগকে ফের উস্কে দেওয়া: মমতা বনাম শুভেন্দুর সেই ঐতিহাসিক নির্বাচনী লড়াই এখনও বাংলার রাজনীতিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। মমতা ফের নন্দীগ্রামে দাঁড়ালে জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে আসনটির গুরুত্ব এক ধাক্কায় বেড়ে যাবে।
  • রাজনৈতিক ‘ন্যারেটিভ’ বদলের চেষ্টা: ‘মমতা নন্দীগ্রামে হেরেছিলেন’, এই পুরনো রাজনৈতিক বয়ানের বদলে ‘মমতা ফের নন্দীগ্রামে লড়ছেন’! এই নতুন বয়ান তৈরি করার সুযোগ তৈরি হবে।

‘মমতা প্রার্থী হলে সরে দাঁড়াব’

ঋতব্রত শিবিরের নেতা আখরুজ্জামানের বক্তব্যেও সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নন্দীগ্রামে প্রার্থী হলে তাঁরা সরে দাঁড়াবেন এবং তাঁর ‘স্বপ্নপূরণে’ সহযোগিতা করবেন।

কিন্তু এখানেই উঠছে আরও বড় প্রশ্ন, এটা কি সত্যিই মমতার প্রতি সমর্থন, নাকি মমতাকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার কৌশল? কারণ, মমতাকে নন্দীগ্রামে প্রার্থী করার দাবি তুললে একদিকে মমতাপন্থী শিবিরকে প্রার্থী নিয়ে অস্বস্তিতে ফেলা যায়, অন্যদিকে নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার ঝুঁকিও কমানো যায়। আর শেষ পর্যন্ত জোড়াফুল প্রতীক যদি ঋতব্রত শিবিরের হাতে না আসে, তাহলে আগেভাগেই বিকল্প রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করে রাখার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।

৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে ভোট

৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন (Nandigram Bypoll 2026)। আর তার আগে জোড়াফুল প্রতীক ও ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

শনিবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ঋতব্রত শিবিরের বৈঠক রয়েছে সকাল ১১টায়। এরপর দুপুর ১২টায় মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা।

তাই এখন আসল প্রশ্ন শুধু নন্দীগ্রামে কে প্রার্থী হবেন তা নয়। প্রশ্ন আরও বড়! জোড়াফুল কার হাতে থাকবে?আসল তৃণমূলের স্বীকৃতি কে পাবে? আর মমতাকে নন্দীগ্রামে নামানোর এই চ্যালেঞ্জ সত্যিই কি সমর্থন, নাকি তার আড়ালে রয়েছে ঋতব্রত শিবিরের ‘মাস্টারপ্ল্যান’?নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন যত এগোবে, এই অঙ্কের উত্তরও তত স্পষ্ট হবে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন